kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিশ্ব বসতি দিবসে গণপূর্তমন্ত্রী

কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিকল্পিত আবাসন গড়তে সহায়ক হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিকল্পিত আবাসন গড়তে সহায়ক হবে

দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ রাজধানীতে বসবাস করে। এর অন্যতম কারণ—রাজধানীর বাইরে সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থানসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল।

ফলে দিন দিন রাজধানীমুখী মানুষের স্রোত বাড়ছেই। তাতে রাজধানীতে জনসংখ্যার ঘনত্বও বাড়ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সকাল ৯টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। আর বিকেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সেমিনারের আয়োজন করে নগর  উন্নয়ন অধিদপ্তর।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার কমানো হলে তা পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণব্যবস্থা চালু করতে হবে। তাহলে গ্রামের মানুষও আধুনিক আবাসন গড়ে তুলতে পারবে এবং নগর অভিবাসনের গতি কমে আসবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যাংক ঋণের মেয়াদ কমপক্ষে ৩০ বছর করতে হবে, সুদের হার হতে হবে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সুবিধা চালু রয়েছে। সবার জন্য আবাসনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে আবাসন খাতে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণব্যবস্থা চালু করলে দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ কম। তাই বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করছে। উত্তরা তৃতীয় পর্ব, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ফ্ল্যাট গ্রহণযোগ্য মূল্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হবে।

ফ্ল্যাট কেনার পর সরকারের কোনো সংস্থা থেকে অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া দুঃখজনক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কর দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পর এভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করলে লোকজন ফ্ল্যাট কিনতে উৎসাহী হবে না। ভয়ে তারা সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে দেবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৭৪ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে নগর অভিবাসন হার ৪.৮২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮ শতাংশ। এ গতি কমিয়ে আনতে না পারলে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ জন্য জেলা-উপজেলাসহ গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নগর অভিবাসন রোধ করতে জেলা-উপজেলায় পরিকল্পিত আবসিক এলাকা এবং বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান মুন্সি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের সচিব অধ্যাপক নূরুল ইসলাম নাজেম।

বিকেল ৪টায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. কে জেড হোসাইন তৌফিক। বক্তব্য দেন নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরোয়ার জাহান, নগর পরিকল্পনাবিদ সামলা এ শফি প্রমুখ।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে আরো পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন, তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে আবাসন পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি আবাসিক প্রকল্পে ৫-১০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত রাখা দরকার। ’

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকাল ৭টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার এতে নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।


মন্তব্য