kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছাত্রলীগের ‘ইন্ধনে’ বহিরাগতদের হামলা গুলি, আহত ১০

খুলনা অফিস   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ছাত্রলীগের ‘ইন্ধনে’ বহিরাগতদের হামলা গুলি, আহত ১০

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রাবাসে গত রবিবার রাতে বহিরাগতদের হামলা হয়েছে। এ সময় তারা গুলিবর্ষণ করে এবং বোমা ফাটায়।

হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হামলার সময় ছাত্রাবাস দুটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই হামলার জন্য ছাত্রলীগের দুই পক্ষ একে অন্যকে দায়ী করছে। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানায়, রবিবার রাত ১০টার দিকে বহিরাগতরা রশিদ হল ও ফজলুল হক ছাত্রাবাসে ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ঢুকে পড়ে। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিক্ষার্থী, প্রহরী ও ডাইনিং বয়সহ ১০ জন ছাত্র আহত হয়েছে।

হামলার সময় বহিরাগতরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এবং বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা ছাত্রাবাস দুটি থেকে ২০-২৫টি মোবাইল ফোট সেট এবং ১০-১২টি ল্যাপটপ নিয়ে গেছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে।

আহতরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক মুন্সি আশিকুজ্জামান কমল, কর্মী মাহির মুন্সির অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করেছে সংগঠনটির এক পক্ষ।

এই পক্ষটি গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের মানিক সাহা অভ্যর্থনা কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাফায়াত হোসেন নয়নের লোকজন হামলা চালিয়েছে।

ছাত্রলীগের এই পক্ষের নেতারা বলেন, আর মাত্র দুই দিন পর পরীক্ষা। কিন্তু তাঁরা বহিরাগতদের ভয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, সভাপতি নিজের লোক দিয়ে সম্প্রতি ছাত্রাবাস কমিটি করেছে; এসব কমিটির নেতারাও এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা এস এম ফিরোজ ইসলাম, নূর-ই জামি রাজ, আশরাফুল ইসলাম, মাহবুবুল ইসলাম, কে এম ইকবাল, ফিরোজ ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কে এম নবিউল ইসলাম রাকিন প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যার সর্বশেষ উদাহরণ রবিবার রাতে দুটি হলে সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রহরী ও ডাইনিং বয়ের ওপর অস্ত্রধারীদের হামলা।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি শাফায়েত হোসেন নয়ন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার আগ মুহূর্তে ফজলুল হক হলের সামনে আমি ও সাধারণ সম্পাদক আলী ইমতিয়াজ সোহান অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ অস্ত্র নিয়ে একদল বহিরাগত আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। অল্পের জন্য গুলি আমাদের গায়ে লাগেনি। ’ তিনি জানান, হামলাকারীরা সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রহরী ও ডাইনিং বয়সহ অন্তত ১০ জনকে জখম করেছে। বঙ্গবন্ধু হলের ডাইনিং ম্যানেজারদের গণধোলাই দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ডাইনিংয়ের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে। এই দুটি ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত না নয় বলে দাবি করেন নয়ন।

হামলার প্রতিবাদে সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে নিরাপত্তার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে কোনো নিরাপত্তা নেই। যখন-তখন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ছাত্রবাসের কক্ষ ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাট করা হচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও কোনো মাথাব্যথা নেই, যা আমাদের হতাশ করছে। ’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. সোবহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিকেলে ড. সোবহান মিয়া জানান, তিনি একটি সভায় রয়েছেন।

খানজাহান আলী থানার ওসি আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে গতকাল বিকেল পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। ’

ওসি আরো বলেন, আবার যাতে সংঘাত না হয় সে জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


মন্তব্য