kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্ত্রাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সহায়তা কামনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সহায়তা কামনা

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক ক্ষেত্রে জোরালো সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করে এ সহায়তা চাওয়া হয়।

সেই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও একই ধরনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিরাপত্তা সংলাপে উভয় দেশ এ ব্যাপারে একমত হয়েছে বলে সংলাপ শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে। ঢাকায় গতকাল রবিবার দুই দেশের মধ্যকার পঞ্চম নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।  

সংলাপে নিরাপত্তা সম্পর্কিত পারস্পরিক উদ্বেগ নিরসনে গভীর ও জোরালো অংশীদারির বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসংক্রান্ত নীতিমালাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে একমত হয়।

সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (দ্বিপক্ষীয় ও কনস্যুলার) কামরুল আহসান। প্রতিনিধিদলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম মোনাহান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তাদের প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

সংলাপে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অংশীদারি-সংক্রান্ত বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা হয়। এসব ইস্যুর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কৌশলগত অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বেসামরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাস দমন ও সহিংস উগ্রবাদ দমনের ইস্যু।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইএসের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অভিন্ন হুমকির কথা বলেছে। সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স এবং অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য নিজ দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার নীতিকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। তারা হলি আর্টিজানে হামলার পর সব সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সমন্বয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের আওতায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গঠনের প্রশংসা করেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে গ্লোবাল পিস অপারেশন ইনিশিয়েটিভ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জয়েন্ট ডিজাস্টার রেসপন্স এক্সারসাইজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (ডিআরইই) মাধ্যমে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার বিষয়ে সামর্থ্য বৃদ্ধি করা, উপকূলীয় অঞ্চলে ৬০০ বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে দ্রুতগামী বোট প্রদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে। এসব বোটের কারণে সমুদ্রসীমায় সশস্ত্র ডাকাতি প্রতিরোধে সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী বছরগুলোয় বর্তমান ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সহায়তা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সংলাপটি শেষ হয়। আগামী বছর ওয়াশিংটনে ষষ্ঠ নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে নিয়মিত নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজন করে আসছে। সূত্র : ইউএনবি।


মন্তব্য