kalerkantho


নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

দেড় যুগ কর দেননি ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেড় যুগ কর দেননি ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত মুখ ছিলেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘সফল ধনকুবের ব্যবসায়ী’—এই ছিল তাঁর প্রথমিক পরিচয়।

দাবি ছিল, ব্যবসার সাফল্য দেশের উন্নয়নেও দেখিয়ে ছাড়বেন তিনি। কিন্তু কিছুতেই কর রিটার্ন প্রকাশ করছিলেন না। ১৯৭২ সালের পর থেকে এবারই কোনো প্রার্থী কর রেকর্ড প্রকাশে এতটা রাখঢাক করে এগোচ্ছেন। সম্প্রতি এই প্রার্থীর কর রেকর্ড-সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিউ ইয়র্ক টাইমসের হাতে আসে। এতে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে ট্রাম্পের ব্যবসায় ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার লোকসান হয়। ক্ষতির পরিমাণ এতটা বেশি যে ১৮ বছর পর্যন্ত তাঁকে কর রেয়াত দেওয়া হয়।

নিয়মানুসারে ঘটনার তিন বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯২ সাল থেকে ঘটনার পরবর্তী ১৫ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ ২০১০ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই দশক কর দিতে হয়নি তাঁকে। অর্থাৎ যে খাতে সাফল্য নিয়ে তিনি বাগাড়ম্বর করছেন সেখানেই সংকট সবচেয়ে বেশি। এই কর রিভিউ থেকে স্পষ্ট যে, ওই লোকসানের পরই কর সুবিধা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি।

মূলত তিনটি ক্যাসিনোতে অব্যবস্থাপনা, এয়ারলাইনস ব্যবসায় ধস এবং ভুল সময় ম্যানহাটনের প্লাজা হোটেল কেনার কারণেই ব্যবসায় ধরা খান তিনি।

নিউ ইয়র্ক টাইমস কর বিশেষজ্ঞ ডেকে এনে ট্রাম্পের কর প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে। বিশেষজ্ঞ জানান, যে লোকসানের জন্য ট্রাম্প কর সুবিধা নিয়েছিলেন তা ১৮ বছরে প্রায় সমপরিমাণ হয়ে যায়। অর্থাৎ ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থই কর রেয়াত পেয়েছেন তিনি। অথচ ব্যবসায় এই পরিমাণ অর্থ থাকলে প্রতি বছরই কর গুনতে হতো পাঁচ কোটি ডলার।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিয়োগ করা এক বিশেষজ্ঞ নিউ ইয়র্ক ইউনির্ভাসিটির স্ক্যাক ইনস্টিটিউট অব রিয়েল এস্টেটের সহযোগী অধ্যাপক জোয়েল রোসেনফিল্ড বলেন, নব্বই দশকের গোড়ার দিকের এই লোকসান ট্রাম্পকে ব্যাপকভাবে লাভবান করে।

ট্রাম্পের প্রচার শিবির থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই রিভিউটিতে থাকা তথ্যগুলো মেনেও নেয়নি আবার নাকচও করে দেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প অত্যন্ত দক্ষ ব্যবসায়ী। ব্যবসা, পরিবার ও কর্মীদের প্রতিও তিনি দায়িত্ববান। এ কারণেই আইনগতভাবে দায়বদ্ধতা রয়েছে—এমন পরিমাণের চেয়ে বেশি কর দিতে তিনি বাধ্য নন। তবে লাখ লাখ ডলার কর দেওয়ার রেকর্ড তাঁর আছে। তা ছাড়া কর বিষয়ে যেকোনো সময়ের যেকোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর তুলনায় বেশি জ্ঞান ট্রাম্পের রয়েছে। কাজেই বিষয়টি যথাযথভাবে করার যোগ্যতাও তাঁর রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এখানে মোটে একটি খবর তৈরি হয়েছে, আর তা হলো, ১৯৯৫ সালের একটি কর রেকর্ড। ২০ বছর আগের একটি তথ্য তারা পেয়েছে তাও আবার অবৈধভাবে বের করা। ’ ট্রাম্পের এক আইনজীবীও নিউ ইয়র্ক টাইমস ইমেইল বার্তায় জানিয়েছেন, এই রেকর্ডটি প্রকাশ করা বৈধ হবে না। কারণ এতে ট্রাম্পের অনুমোদন নেই। ট্রাম্প প্রচারের শুরু থেকেই তাঁর কর রিটার্ন প্রকাশ করতে চাইছেন না। এর মাধ্যমে কয়েক দশকের ঐতিহ্য ভাঙলেন তিনি। এর আগে গত সপ্তাহের বিতর্কের সময়ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এ প্রসঙ্গটি বারবার টেনে বলেন, এর অর্থ দর্শকরা ধরে নেবে যে কেন্দ্রীয় করের কিছুই পরিশোধ করেননি ট্রাম্প। হিলারি নিজে তাঁর ৪০ বছরের কর রিভিউ প্রকাশ করেছেন।

তবে ১৯৯৫ সালে ট্রাম্প যা করেছেন তাতে অবৈধ কিছু ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এ বিষয়টি বৈধ। নির্বাচনে প্রার্থী হলেই কর রিভিউ জানাতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। পুরো বিষয়টিই প্রার্থীর নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে। তিন পৃষ্ঠার এই নথি ডাকযোগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হাতে পৌঁছে। তবে এর যথার্থতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।


মন্তব্য