kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পারিবারিক কলহ

এসিডে পুড়ল মা-ছেলেসহ তিনজন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এসিডে পুড়ল মা-ছেলেসহ তিনজন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পারিবারিক কলহের জের ধরে একই পরিবারের তিনজন এসিডদগ্ধ হয়েছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা সদরের কমলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এসিডদগ্ধ তিনজনই বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলো মো. শাওন (৩৫), জাহানারা বেগম (৪৫) ও তাঁর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (১৫)।

জানা গেছে, জাহানারা বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহে। শাওনের বাড়ি ভৈরব পৌর এলাকার আমলাপাড়ায়। তিনি জাহানারার পঞ্চম স্বামী। তাঁরা কমলপুর এলাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, জাহানারার প্রথম সংসারের তিনটি সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়েই তিনি বর্তমান শাওনের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। শনিবার রাত ১১টার দিকে শাওন তাঁর বাসায় একটি গ্যালনে এসিড-জাতীয় তরল পদার্থ দেখে স্ত্রীর কাছে এ সম্পর্কে জানতে চান। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এ ঝগড়ায় যোগ দেয় কিশোর জাহাঙ্গীরও। একপর্যায়ে এসিডের গ্যালন নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় গ্যালনের এসিডে ছিটকে পড়ে সবাই দগ্ধ হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন বাসায় গিয়ে তাদের প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান জানান, জাহানারার শরীরের শতকরা ৪৫ ভাগ, শাওনের ২০ ভাগ ও জাহাঙ্গীরের ৭ ভাগ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে তারা এসিডে দগ্ধ হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। তবে জাহানারা ছাড়া অন্যরা আশঙ্কামুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শনিবার রাতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাঁদের বাসায় যান।   সেখানে গিয়ে দেখেন শাওন, জাহাঙ্গীর ও জাহানারা চিৎকার করছেন। জাহানারার মেয়ে সেতু (১০) ও মিতু (১২) তাঁদের শরীরে পানি ঢালছে। তারা জানায়, এ সময় আহত অবস্থায় তারা একে অন্যের প্রতি এসিড মারার অভিযোগ করেন।

তবে এলাকার লোকজন জানায়, জাহানারার ছেলে মাদকাসক্ত। সে ওই রাতে নেশা করে বাড়িতে এসিড নিয়ে গিয়েছিল। তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাওন গ্যালন নিয়ে জাহানারার শরীরে এসিড ঢেলে দেন। বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তির সময় জাহাঙ্গীর ও শাওনের গায়েও এসিড পড়ে।

ভৈরব থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় যায়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য