kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজার সৈকত

মরণফাঁদ গুপ্তখাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মরণফাঁদ গুপ্তখাল

কক্সবাজার সৈকতের সি ইন পয়েন্টে সামুদ্রিক জোয়ারের পানির তোড়ে সৃষ্ট গুপ্তখাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ষার শেষের দিকে জোয়ারের তোড়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুচরে সৃষ্টি হয়েছে কিছু গর্ত। কোথাও কোথাও এই গর্ত খালের মতো বেশ দীর্ঘ।

ভাটার সময় দেখা গেলেও জোয়ারের সময় এর অস্তিত্ব বোঝা যায় না। সেই কারণেই এ গর্ত পর্যটকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এর আগেও সৈকতে এমন গুপ্তখালের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা হয়ে পড়ায় আবার দুর্ঘটনা ঘটছে।

গত শনিবার সৈকতের সি ইন পয়েন্টে গোসল করতে নেমে এ রকম গর্তে পড়ে স্রোতের টানে তলিয়ে গেছে রিফাত হাসান (২০) নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকার সাভার উপজেলার নবী নগর এলাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার) কলেজের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র। গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত তাঁর খোঁজ মেলেনি।

গত দুই দিন সৈকতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সি ইন পয়েন্টের বালুচরে সৃষ্ট একটি গর্ত দীর্ঘ একটি ছড়া বা খালে রূপ নিয়েছে। সাগরে ভাটার সময় এই খালটি স্পষ্ট দেখা যায়। খালের ওপারে রয়েছে বিশাল বালুচর। জোয়ারের সময় খালটি এবং বিস্তৃত এ বালুচরের অস্তিত্ব বোঝা যায় না। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছাড়া পর্যটকদের বোঝার উপায় থাকে না যে এখানেই মরণ ফাঁদের মতো একটি গুপ্তখাল রয়েছে। অর্থাৎ জোয়ারের সময় এবং ভাটার সময় এই স্থানটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। এতে করে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে পর্যটকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কিন্তু এমন বিপজ্জনক স্থানটিতে লাল পতাকা উড়িয়ে পর্যটকদের সতর্ক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্ষায় সাগর উত্থাল থাকে। এ সময় জোয়ারও হয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার। স্রোতের টানও থাকে প্রচণ্ড। জোয়ারের তোড়েই এসব গুপ্তখাল সৃষ্টি হয় বালুচরে। তবে শীতকালে সাগর যখন শীতল হয়ে পড়ে তখন এসব গুপ্তখাল ভরাট হয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়। ’ তিনি জানান, সৈকতের কলাতলি ও সি ইন পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এ রকম গুপ্তখাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে সি ইন পয়েন্টে গুপ্তখালে পড়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রের মৃত্যু হয়। সেই থেকে লাল পতাকা উড়িয়ে স্থানটি বিপজ্জনক হিসেবে পর্যটকদের সতর্ক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু শনিবার রিফাতসহ সাভারের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ৪৩ ছাত্র যখন সেখানে গোসল করতে নামেন তখন লাল পতাকা ছিল না। গতকাল সকালেও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়নি এই সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। তবে বিকেলে লাল পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আবদুর রহমান।

জেলা প্রশাসক কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘সৈকতের বিপজ্জনক স্থানে পর্যটকদের গোসল করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ’

কক্সবাজার সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৈকতে পর্যটকদের দেখভাল করার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োজিত ১৭ জন কর্মী রয়েছেন। আরো রয়েছেন কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) উদ্ধারকর্মী, পর্যটন পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া সৈকতে গোসল, খেলাধুলা ও বিনোদনের আলাদা স্থান নির্ধারণ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ’

জেলা প্রশাসক আরো জানান, শনিবার শিক্ষা সফরে আসা সাভারের টেক্সটাইল কলেজের ছাত্ররা ভুলক্রমে সৈকতের নিষিদ্ধ স্থানে গোসল করতে নেমেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, সৈকতের কর্মীরা পর্যটকদের করণীয় সম্পর্কে মাইকিং করে থাকেন। তার পরও ভ্রমণকারীদের সেখানে কর্মরত পর্যটন পুলিশ ও সৈকতকর্মীদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক আহ্বান জানিয়েছেন।


মন্তব্য