kalerkantho


সা ক্ষা ৎ কা র : মো. শহীদ উল্লা খন্দকার সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

কয়েক বছরের মধ্যে আবাসন সংকট থাকবে না

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কয়েক বছরের মধ্যে আবাসন সংকট থাকবে না

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে কালের কণ্ঠ’র মুখোমুখি হয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : তোফাজ্জল হোসেন রুবেল

 

কালের কণ্ঠ : এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় কী?

মো. শহীদ উল্লা খন্দকার : জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত সব দেশের মতো বাংলাদেশও ‘বিশ্ব বসতি দিবস’ পালন করে থাকে।

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘গৃহায়ণই উন্নয়নের কেন্দ্র’। এ দিবসে আমরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দিনের শুরুতে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে আপনাদের কাজের অগ্রগতি কতটুকু?

শহীদ উল্লা খন্দকার : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আমরা ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছি। এ লক্ষ্যে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে আমরা ছোট-বড় প্রায় ৯০টি ফ্ল্যাট ও প্লট প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। এ প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি আমরা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে আরো বাসস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যা প্রকট। এ লক্ষ্যে আপনাদের কী পরিকল্পনা আছে?

শহীদ উল্লা খন্দকার : এটা সত্য যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমরা রাজধানীতে আট শতাংশ আবাসন দিতে পারছি। আর রাজধানীর বাইরে এর পরিমাণ কিছুটা বেশি। এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে তা ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ শুরু করেছি। রাজধানীতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৯টি খালি জায়গায় ১১টি ২০ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া আজিমপুর ও মতিঝিল কলোনির ফাঁকা জায়গা ও পুরনো ভবনের স্থানে নতুন করে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আমরা রাজধানীর ২১টি পরিত্যক্ত বাড়ির স্থানেও বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : মন্ত্রী, বিচারপতি ও সচিবদের জন্য নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে।   এ প্রকল্প কতটুকু এগিয়েছে?

শহীদ উল্লা খন্দকার : আমরা বিচারপতিদের জন্য জাজেস কমপ্লেক্সসংলগ্ন সুপিরিয়র টাইপ ৭৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছি। তা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া মন্ত্রীদের জন্য মিন্টো রোডে ১০টি, সিনিয়র সচিব ও সচিবদের জন্য আরো ১০৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : মিরপুরে আপনাদের বিপুলসংখ্যক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ে আপনাদের মনিটরিং আছে কি না?

শহীদ উল্লা খন্দকার : আমরা রাজধানীর মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে ‘স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প’ নামে এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করছি। এখানে নতুন করে আরো এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য দাপ্তরিক কাজ চলছে। কাজের মান ও আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খুব ভালো করেই মনিটর করা হয়। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নির্দেশ ও তাঁদের কাজের অগ্রগতি জানতে মাননীয় মন্ত্রীসহ আমরা মাঝেমধ্যে মাঠে চলে যাই। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ যাতে কোনো ব্যক্তির পকেটে না যায়, সেদিকে তীক্ষ নজর রাখা হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারি ফ্ল্যাটের দাম তুলনামূলক বেশি। এ কারণে রাজউকের উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পের বিক্রি মন্দা। আপনার অভিমত কী?

শহীদ উল্লা খন্দকার : সরকারি ফ্ল্যাটের দাম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পে খেলার মাঠ, পার্ক, পুকুর, কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, লাইব্রেরিসহ নানা নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু জমির দামটা আমরা সমন্বয় করে থাকি। আমরা ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির মাধ্যমে ফ্ল্যাট দেই। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সম্পূর্ণ মেনে সরকার ভবন নির্মাণ করে। আপনারা জেনে খুশি হবেন, উত্তরা ফ্ল্যাট প্রকল্পে আমরা একটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেছি, কোনো বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান যা দিতে পারবে না।

 

কালের কণ্ঠ : পূর্ত মন্ত্রণালয়ের ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান-বারিধারা, বনানী ও উত্তরাকে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এসব আবাসিক এলাকা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সয়লাব। আপনারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন?

শহীদ উল্লা খন্দকার : রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাজধানীর আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছি। সেখানে দেখা গেছে, অনেক বরাদ্দ গ্রহীতা নিয়ম ভঙ্গ করে আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক হিসেবে ব্যবহার করছে। যারা বরাদ্দ শর্ত ভঙ্গ করে প্লট ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। রাজউক নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষও তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে।

 

কালের কণ্ঠ : রাজধানীর বাইরে আপনাদের পরিকল্পিত আবাসনের কাজ কেমন চলছে?

শহীদ উল্লা খন্দকার : আমরা শহরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প নিয়েছি। এটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাউজিং এস্টেট তৈরি করে ফ্ল্যাট নির্মাণ, প্লটসহ বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লটের মাধ্যমে পরিকল্পনামাফিক কাজ করা হচ্ছে। আশা করি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা আবাসন সংকট সমাধানে মাইলফলক ভূমিকা রাখতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ : বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের কোনো পরামর্শ আছে কী?

শহীদ উল্লা খন্দকার : সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমাদের কিছু জমিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছি। জেনে খুশি হবেন, নতুন করে বেসরকারি আবাসন নীতিমালা সহজীকরণ করা হয়েছে। তবে তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তাদের ভবন নির্মাণের সময় ইমারত নির্মাণ আইনের ব্যত্যয় না ঘটায়। আশা করি, সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান আরো এগিয়ে আসবে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

শহীদ উল্লা খন্দকার : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ!


মন্তব্য