kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জয় নির্ধারক রাজ্য আইওয়ায় আগাম ভোট শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জয় নির্ধারক রাজ্য আইওয়ায় আগাম ভোট শুরু

দীর্ঘকাল ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নির্ধারক ভূমিকা পালন করে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ভোট। এ রাজ্যের ভোটের ফলাফল প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও পর পর দুইবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পথ করে দিয়েছিল।

দোদুল্যমান ভোটারদের এ রাজ্যে (সুয়িং স্টেট) ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগাম ভোট শুরু হয়ে গেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেখানে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন, যেখানে জরিপে এগিয়ে আছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হিলারির এক দিন আগে গত বুধবার আইওয়াতে নির্বাচনী প্রচার চালান রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচারে তিনি হিলারির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পদ (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ব্যবহার করে অর্থ কামানোর অভিযোগ আনেন। এর এক দিন পর এ রাজ্যে প্রচারে গিয়ে হিলারি ক্লিনটনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে অর্থ কামানোকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

বুধবার আইওয়াতে প্রচারে গিয়ে ডোনান্ড ট্রাম্প রাজ্যের শ্বেতাঙ্গ, শ্রমিক শ্রেণির কাছে ভোটের আবেদন জানান। তাঁর বিশ্বাস, সাধারণ মানুষের ভোটই ‘হকিস্টেট’ হিসেবে পরিচিত এ রাজ্যটিতে তাঁকে এগিয়ে রাখবে। এ বিশ্বাসের কারণও আছে। সর্বশেষ জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ রাজ্যে হিলারির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন।

বারাক ওবামা ২০০৮ সালের নির্বাচনে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছিলেন, যা তাঁকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যায়। ২০১২ সালের পুনর্নির্বাচনেও বারাক ওবামা এ রাজ্যটিতে নিজের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু এক দশক পর এ রাজ্যে ডেমোক্রেটিকদের এগিয়ে থাকার দিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে সাতটি কঠিনতম ‘সুয়িং স্টেটের’ একটি হিসেবে এ রাজ্য এখন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বড় বাধা মনে করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় আইওয়াতে হিলারির বৃহস্পতিবারের প্রচারাভিযান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যেখানে আগামী কয়েক সপ্তাহ আগাম ভোট চলবে। ওই দিন হিলারি আইওয়ার রাজধানী দে ময়েনের দুই হাজার লোকের এক সমাবেশে হাজির হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা আজ আইওয়াতে ভোট শুরু করলাম। ’ তিনি সমবেত লোকজনের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ের জন্য আমাদের আর ৪০ দিন হাতে আছে, যার প্রভাব দেশের পরবর্তী ৪০ বছর পর্যন্ত পড়বে। আপনারা প্রত্যেকেই এ নির্বাচনের পার্থক্য তৈরি করতে পারেন। ’ এ সময় হিলারি ‘ত্রাণকর্তা’ আইওয়াবাসীর সঙ্গে ট্রাম্প ছলনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন।

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পকে যদি জিততে হয়, তাহলে তাঁকে তরুণ প্রজন্ম, আফ্রিকান আমেরিকান ও লাতিন ভোটারদের মন পেতে হবে। যাদের ভোট ওবামার বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। হিলারি ক্লিনটনও তাই সেভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পের কর্তৃত্বপরায়ণতা ও শঠতার বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন। আইওয়াতেই তিনি ট্রাম্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট নিয়ে কথা বলেছেন। ফলে হিলারি নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম বিতর্কের ভিডিও ক্লিপ প্রচার করছেন, যাতে ট্রাম্পের এসব নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট ফুটে উঠেছে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার হিলারি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যা বলতে পারেন। কিন্তু এ রেকর্ড মিথ্যা বলতে পারে না। ’

গত বৃহস্পতিবারের প্রচারে হিলারি ক্লিনটন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প সব সময়ই তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের আগে রেখেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর মিথ্যা বলতেও কোনো সমস্যা নেই।

ট্রাম্পের প্রচার : এর আগের দিন বুধবার আইওয়াতে প্রচার চালান ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম বিতর্কের পর এক দিন তিনি হিলারিকে আক্রমণ করা থেকে বিরত ছিলেন। সেই নীরবতা ভেঙে সেদিন ট্রাম্প তাঁর বক্তৃতায় হিলারিকে ‘বিশেষ স্বার্থের ঘুঁটি’ হিসেবে চিত্রায়িত করেন। আইওয়ার কাউন্সিল ব্লাফস শহরে প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারির অর্থ কামানোর বিষয়ে খোঁচা দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন।

প্রচারাভিযানে ট্রাম্প বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন একজন ইনসাইডার। যিনি তাঁর দাতাদের (ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ডোনার) পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং তাঁর ইনসাইডাররাও তার পক্ষে যুদ্ধ করছে। আমি একজন আউটসাইডার। আমি আপনাদের জন্য যুদ্ধ করি। আমরা একত্রে যুদ্ধ করি। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য