kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তামিমের ‘ঘনিষ্ঠ’ সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তামিমের ‘ঘনিষ্ঠ’ সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে

‘নব্য জেএমবির সদস্য’ সালাউদ্দিন ওরফে কামরান ওরফে সিদ্দিককে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ ছয় দিনের রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) নিয়েছে। সালাউদ্দিন নিহত জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিট।

কল্যাণপুরে জঙ্গি অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে গত বুধবার রাতে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট।

সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সালাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিলে (জাহাজ বিল্ডিং) গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নিহত আবু হাকিম নাঈমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল। এ ছাড়া গুলশানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবির সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরীর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। ওই দুজনের তত্ত্বাবধানে সে ঢাকায় অস্ত্রের প্রশিক্ষণও নিয়েছে। ’

মহিবুল ইসলাম আরো বলেন, ‘সালাউদ্দিন নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার পর গত মে মাসে ঢাকায় জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগানের কাছে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয়। রিগানকে কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিল থেকে গ্রেপ্তার করার পর রিমান্ডে নিয়ে সালাউদ্দিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ’

তামিম চৌধুরী গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে নিহত হন। আর নাঈম নিহত হন গত ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের তাজ মঞ্জিলে অভিযানে। সিটিটিসি ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ওই দুজনের মৃত্যুর পর সালাউদ্দিন পলাতক থেকে নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিল। পলাতক থাকাবস্থায় তার সঙ্গে নব্য জেএমবির অন্য নেতাদের সাক্ষাৎ হয় বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে। সালাউদ্দিন গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে, জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ও আবু হাকিম নাঈমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। নব্য জেএমবির কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে সে বিভিন্ন ধরনের প্রচারে লিপ্ত ছিল। নব্য জেএমবির সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তাকে সহযোগিতা করত। তারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। নব্য জেএমবির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথাও স্বীকার করে সালাউদ্দিন।


মন্তব্য