kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদন

বাংলাদেশে পুলিশ বিরোধীদের পায়ে গুলি করছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশে পুলিশ বিরোধীদের পায়ে গুলি করছে

নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বলেছে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলের সদস্য ও সমর্থকদের পায়ে গুলি করছে। আহতরা জানিয়েছে, হেফাজতে নিয়ে পুলিশ তাদের গুলি করলেও দাবি করা হচ্ছে, বন্দুকযুদ্ধ বা বিক্ষোভের সময় তারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

গত বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (জামাক) চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে এইচআরডাব্লিউর বেশির ভাগ প্রতিবেদনই বিতর্কিত এবং এ দেশে তাদের তথ্যের উৎসও বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ। এর পরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি ৪৫ পৃষ্ঠার। প্রতিবেদনটির শিরোনাম হচ্ছে, ‘বাঁচার অধিকার নেই : আটক ব্যক্তিদের পায়ে গুলি বা পঙ্গু করছে বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনী’। প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগগুলো তদন্ত করতে জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন অফিস এবং জাতিসংঘ নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডবিষয়ক বিশেষ দূতকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২৫ ব্যক্তিকে পায়ে গুলি করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য কিংবা সমর্থক। আহত ব্যক্তিরা বলেছে, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের পায়ে গুলি করে। পরে তাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। অনেকের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছে, গুলি করার আগে তাদের নির্যাতনও করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউয়ের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই আটক ব্যক্তিদের হত্যা করে আসছে। নিরাপতা বাহিনী দাবি করে থাকে কর্তৃপক্ষ আটক ব্যক্তিকে অপরাধস্থলে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা তার সহযোগীরা আক্রমণ করলে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। অ্যাডামস বলেন, ‘এখন’ বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনী অনুরূপ একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যা আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি ব্যবহার করত। আর সেটি হচ্ছে আহত ব্যক্তিদের হাঁটু বা এর নিচে গুলি করা। দৃশ্যত তারা বিরোধী দলের সদস্য বা এর সমর্থক বলেই তাদের এ ধরনের নির্যাতন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার কথা বলেছে। তাদের ভয়, পরিচয় প্রকাশিত হলে তাদের আবারও অবাধে গ্রেপ্তার, নিখোঁজ, নির্যাতন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে। কারণ বাংলাদেশে এগুলো খুবই সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যদের ক্ষেত্রে। না হলে তাদের মিথ্যা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে।

ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অথবা সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সত্য হচ্ছে, ২০০৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, তাঁর সরকারের রাষ্ট্র অনুমোদিত সহিংসতার ব্যাপারে সীমাহীন সহনশীলতা রয়েছে। ’

এইচআরডাব্লিউ বলছে, পায়ে গুলি করার এ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে। সেই সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনের আগে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যখন বিরোধীদলের সমর্থকরা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে পেট্রলবোমার ব্যবহার এবং দেশে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছিল। এ সময়ের মধ্যে এবং এখন পর্যন্ত সংস্থাটি অনেকগুলো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছে, যেখানে নির্যাতন, জোরপূর্বক নিখোঁজ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিধিবহির্ভূত গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে।

জামাকের বক্তব্য : এইচআরডাব্লিউয়ের প্রতিবেদনের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতিপূর্বে এ সংস্থাটি যতগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নিয়ে, তার অধিকাংশই বিতর্কিত এবং সত্যতা নেই। তারা বাংলাদেশের যেসব সোর্স থেকে তথ্য নেয়, তারাও বিতর্কিত এবং অস্বচ্ছ। তাই এ প্রতিবেদন শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে অপাতদৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে। তবে যদি প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ থাকে, সেগুলো ধরে তদন্ত করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। যদি সেই তদন্তে এইচআরডাব্লিউয়ের কথা সঠিক হয় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় কোনো নেতাকর্মীর পায়ে এভাবে গুলির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে কড়া ভাষায় সুপারিশ করবে মানবাধিকার কমিশন। ’

র‌্যাব-পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের র‌্যাব-পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে না। তারা আত্মরক্ষার জন্য সন্ত্রাসীদের ওপর গুলি চালায়। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর যারা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, তখন দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো নীরব ছিল। এখন মানবাধিকার সংগঠনগুলো সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার শ্যামপুরে স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর মিরপুরে পৃথক একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে গণ অভ্যর্থনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে সুশৃঙ্খল থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।


মন্তব্য