kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে শঙ্কা

বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হলো পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হলো পাকিস্তান

অভিন্ন ছয় নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ৫৬ বছরের পুরনো চুক্তি ভারত প্রত্যাহার করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে পাকিস্তান। অ্যাটর্নি জেনারেল আশতার আসাফ আলীর নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

ওই বৈঠকে পাকিস্তান ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির ৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে সহযোগিতা চায়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছে বিষয়টি স্থায়ী সমাধান করতে বিচারক নিয়োগের আবেদন জানায়। এর জবাবে বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ থেকে সিন্ধুর পানিবণ্টনের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

অভিন্ন নদী শতদ্রু, বিপাশা, রবি, সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগার মধ্যে কোনটির পানি কোন দেশ পাবে তা ঠিক করতে ১৯৬০ সালে ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের তখনকার রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান ওই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ওই চুক্তির মধ্যস্থতা করে বিশ্বব্যাংক।

এ চুক্তি অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলীয় রবি, শতদ্রু ও বিপাশা নদীর ওপর ভারতকে এককভাবে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা নদীর ওপর পাকিস্তানকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়। তবে এও বলা হয়, প্রয়োজনে এ নদীগুলোর পানি ভারত সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে পারবে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত সিন্ধু, চন্দ্রভাগা ও ঝিলমের মূল প্রবাহ ভারতেই। সিন্ধু নদের মাত্র ২০ শতাংশ ভারত ব্যবহার করে। কিন্তু পাকিস্তান কৃষির জন্য এই তিন নদীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

এদিকে মঙ্গলবারই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি প্রত্যাহার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। একতরফাভাবে এই পানিচুক্তি প্রত্যাহারের ফলে পাক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। যার ফলে প্রয়োজনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়ে বিচার চাইতে পারে পাকিস্তান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত সোমবার ভারত-পাকিস্তান পানিচুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেখানে মোদি বলেন, ‘রক্ত ও পানি একসঙ্গে বইতে পারে না। ’ এর পর বিশ্লেষকরা বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তনদীর পানি নিয়ে ‘কৌশলগত আক্রমণে’ যাচ্ছে ভারত। ফলে ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত ছয়টি নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হতে পারে। সম্প্রতি কাশ্মীরের উরি সীমান্তে জঙ্গিদের হামলায় ভারতের ১৮ সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ‘কৌশলগত আক্রমণের’ কথা ভাবছে ভারত। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকে ওই হামলার জন্য দায়ী করা হয়। সূত্র : ডন, জিও নিউজ ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য