kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবিশেষ

তিনজনের এক সন্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্বে এই প্রথম বিজ্ঞানের নতুন এক উপায় ব্যবহার করে এমন একটি শিশুর জন্ম দেওয়া হয়েছে যার জন্মের পেছনে তিনজন মানুষের ভূমিকা রয়েছে। তিন ব্যক্তির ‘ফার্টিলিটি কৌশল’ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই শিশুর জন্ম দিয়েছেন।

শিশুটির জন্মের পেছনে তাদের মা-বাবা ছাড়াও এক দাতার ডিএনএ নেওয়া হয়। ত্রুটিমুক্ত শিশু জন্মানোর ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। নিউ সায়েন্টিস্ট সাময়িকীতে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, নবজাতক শিশুটি ছেলে। পাঁচ মাস আগে এই শিশুর জন্ম হয়। শিশুটির শরীরে স্বাভাবিকভাবেই ছিল তার মা ও বাবার ডিএনএ। এর পরও তৃতীয় আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ছোট্ট একটি জেমনটিক কোড নিয়ে সেটি তার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ওই ব্যক্তিটি একজন দাতা।

শিশুটির মা জর্দানের নাগরিক। তাঁর জিনে কিছু ত্রুটি ছিল। শিশুটি যাতে ত্রুটিমুক্ত হয়ে জন্মাতে পারে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা সেটা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এর ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। তাঁরা বলেন, যেসব পরিবারে জেনেটিক ত্রুটি বা সমস্যা আছে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার তাদের সাহায্য করতে পারে। তবে তাঁরা বলেছেন, এই কাজটি করার আগে বহু জিনিস পরীক্ষা করে নেওয়া খুব জরুরি।

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন নামের এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে এখনো প্রচুর বিতর্ক হচ্ছে। তিনজন মানুষের শরীর থেকে ডিএনএ নিয়ে এই প্রথম যে কোনো শিশুর জন্ম হলো তা কিন্তু নয়। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে এই কাজটি প্রথম হয়েছে। তবে এবার যেভাবে করা হলো সেটি একেবারে নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রক্রিয়া।

প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে ছোট্ট একটি কম্পার্টমেন্ট, যাকে বলা হয় মাইটোকন্ড্রিয়া। এই মাইটোকন্ড্রিয়া খাদ্য থেকে জ্বালানি তৈরি করে। কোনো কোনো নারীর মাইটোকন্ড্রিয়ায় জেনেটিক ত্রুটি থাকে এবং সেটা তাদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারে।

জর্দানের এই পরিবারটির যে ত্রুটি ছিল তার নাম ‘লেই সিন্ড্রোম’। এই ত্রুটির ফলে শিশুটির মৃত্যুও হতে পারত। এই ত্রুটি সংশোধন করতে বিজ্ঞানীদেও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের এই দলকে এসব করতে যেতে হয়েছে মেক্সিকোতে। কেননা সেখানে এই প্রক্রিয়া আইন দিয়ে নিষিদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের গবেষণা আইন করে নিষিদ্ধ করা আছে।

এই প্রক্রিয়ায় ডাক্তাররা মায়ের ডিম্বাণু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব ডিএনএ সংগ্রহ করেছেন। একই সঙ্গে দাতার ডিম্বাণু থেকেও স্বাস্থ্যকর মাইটোকন্ড্রিয়া সংগ্রহ করা হয়। এরপর এই দুটিকে নিষিক্ত করা হয় বাবার শুক্রাণুতে। এর মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়েছে।

ডাক্তাররা বলেছেন, শিশুটি সুস্থ আছে। এখন পর্যন্ত তার শরীরে কোনো ত্রুটি ধরা পড়েনি। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য