kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শরীয়তপুর হাসপাতাল

অক্সিজেন সংকটে ২ নবজাতকের মৃত্যু!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অক্সিজেন সংকটে ২ নবজাতকের মৃত্যু!

 শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অক্সিজেন সংকটকে দায়ী করেছে স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শিশু দুটি মারা যায়।

এরপর হাসপাতাল থেকে কয়েকটি শিশু রোগীকে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকরাও বলেছেন, চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ একেবারেই কম। তবে অক্সিজেন না দেওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলার সিভিল সার্জন মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সদর হাসপাতালে অক্সিজেন ফ্লোমিটারসহ চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখজনক। ১০টি ফ্লোমিটার সরবরাহ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসক বা সেবিকা কারো দায়িত্ব পালনে অবহেলা থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন একই উপজেলার পুটিয়া গ্রামের জেসমিন মৃধা। ওই দিনই রাত ৮টার দিকে এ নবজাতককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একই দিন দুপুর ২টার দিকে জেলা শহরের হাওলাদার ক্লিনিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিয়ারচর দিয়ারা চৌকিদার কান্দি গ্রামের ফারজানা যমজ ছেলেসন্তান প্রসব করেন। তাদের মধ্যে একটির শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে তাকে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন রাত ১০টার দিকে অক্সিজেনের অভাবে প্রথমে একটি শিশু মারা যায়। এর ১৫ মিনিট পর আরো একটি শিশুর মৃত্যু হয়।

হাওলাদার ক্লিনিক থেকে পাঠানো নবজাতকটির স্বজন লাভলী বেগম (৩০) বলেন, চিকিৎসক শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়া বন্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন। আগে রাত জাগার কারণে তিনি শিশুটির পাশে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কখন এসে অক্সিজেন সিলিন্ডার খুলে নেওয়া হয়েছে তিনি টের পাননি।

লাভলী বলেন, ঘুম থেকে জেগে শিশুটির অবস্থা খারাপ দেখে তিনি সেবিকাদের কাছে ছুটে যান এবং অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁরা অক্সিজেন না দিয়ে বিষয়টি চিকিৎসককে জানাতে বলেন। এরপর তিনি যান চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু চিকিৎসক বলেন সেবিকার কাছে যেতে। কেউই তাঁর অনুরোধ কানে নেননি। রাত ১০টার দিকে নবজাতক শিশুটি মারা যায়।

পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাঠানো নবজাতকের বাবা শহীদ মৃধা বলেন, সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর সেবিকারা জানান তাঁদের কাছে অক্সিজেন নেই। পরে তিনি হাসপাতালের এক কর্মচারীকে ২০০ টাকা দিয়ে অক্সিজেন এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

শহীদ বলেন, ‘অক্সিজেন দেওয়ার পর আমার ছেলে ভালো ছিল। ডাক্তার আমাদের অক্সিজেন খুলতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু নার্সরা আমাদের না জানিয়ে অক্সিজেন খুলে নিয়ে যাওয়ার পর ছেলেটি মারা যায়। ’

এ ব্যাপারে কথা বলতে দায়িত্বে থাকা সেবিকা স্মৃতির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন ধরে রেখে দেন, কোনো কথা বলেননি।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি ওয়ার্ডে মাত্র একটি অক্সিজেন ছিল। এ কারণে একসঙ্গে দুটি শিশুকে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অক্সিজেনের কারণেই যে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে এমনটা নাও হতে পারে। শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ঢাকায় নেয়নি।


মন্তব্য