kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংবাদ সম্মেলনে আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান

অর্থ ফিরে পেতে ফিলিপাইনের আদালতে মামলা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অর্থ ফিরে পেতে ফিলিপাইনের আদালতে মামলা হবে

ফিলিপাইনের আদালত স্বীকৃতি দিলেও অর্থ হাতে পেতে হলে সেখানকার আদালতে জারি মামলা (এক্সিকিউশন স্যুট) করতে হবে বাংলাদেশকে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর জন্য সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজী হাসান এ তথ্য জানান। সম্প্রতি সানদিয়াগোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশের মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত ঝুঁকি নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে করা তৃতীয় ‘মিউচ্যুয়াল ইভাল্যুশন’ প্রতিবেদন অনুমোদনের সাফল্য নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবাদ সম্মেলনের আগে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে একই বিষয়ে একটি বৈঠক করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ‘ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা থাকা রিজার্ভের এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন সে দেশের আদালত। কিন্তু ওই দেশের একটি নিয়ম আছে, আদালতের স্বীকৃতি থাকলেও অর্থ হাতে পেতে একটি এক্সিকিউশন স্যুট বা জারি মামলা

করতে হয়। তাই এখন আমরা সেই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ বিষয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোথায় কোথায় কী কী করা দরকার, তা করা হবে। মামলার পর আদালতের নির্দেশনা পেলে ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ব্যাংক হিসাব আছে সেখানে জমা করে দেবে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা ওই টাকা পেয়ে যাব। ’

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের আদালত ক্যাসিনো জ্যাঙ্কেট অপারেটর কিম অংয়ের জমা দেওয়া এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বাংলাদেশের বলে স্বীকৃতি দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে আট কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকড হয়ে ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সে দেশে চলে যায়। ওই অর্থের একটি বড় অংশ আবার সেখানকার কয়েকটি জুয়ার আসরে খরচ করে হ্যাকাররা। তেমনই একটি ক্যাসিনোর জ্যাঙ্কেট অপারেটর কিম অং সে দেশের সিনেট কমিটির শুনানিতে জানান, তাঁর কাছে এমন কিছু অর্থ আছে, যা তিনি জমা দিতে চান। পরে তিনি ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ও ৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার পেসো জমা দেন। ডলারে রূপান্তর করলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সানদিয়াগোয় অনুষ্ঠিত এপিজির বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নসংক্রান্ত ঝুঁকি নিরসনে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়াসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পরও এমন ভালো রেটিং পাওয়ার কী কারণ থাকতে পারে সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাজী হাসান বলেন, তৃতীয় পর্বের এ মূল্যায়নটি হয়েছে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে। এবারের মূল্যায়নে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এপিজির বার্ষিক সভায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং এ কারণে কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা প্রতিহত করতে পারায় বাংলাদেশ বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন এজেন্সির দায়দায়িত্ব ভাগ করা আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুদক কাজ করছে। আর সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত সব টাকা পাচার হয়ে গেছে বিষয়টি তেমন না। দেশের বাইরে বৈধভাবে বাস করেন এমন অনেক বাংলাদেশির টাকা সেখানে রয়েছে।

এপিজি ও এর সদস্য ৪১টি রাষ্ট্র বাংলাদেশের ঝুঁকির মান আন্তর্জাতিকমানের স্বীকৃতি দেওয়ায় এলসি বা ঋণপত্র খোলা, বিদেশি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। এপিজির এ প্রতিবেদন দেখে সবাই এখানে বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে দেখবেন।

কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের রেটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যৌথ মূলধনী কম্পানির নিবন্ধকের কার্যালয়ের (আরজেএসসি) নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে এপিজির কিছু প্রশ্ন রয়েছে। আর ব্যাংক খাতের তদারক ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আর্থিক খাতের সার্বিক তদারকি, বিশেষ করে বীমা ও পুঁজিবাজারের তদারকিব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এপিজির। এ ছাড়া ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাদের।


মন্তব্য