kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উজ্জীবিত হিলারি চুপসে গেছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উজ্জীবিত হিলারি চুপসে গেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত প্রথম টেলিভিশন বিতর্কের পর দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ অনেকটাই এগিয়ে।

সোমবার সন্ধ্যাজুড়ে তিনি বলেছেন, প্রায় সব জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতে তিনিই জয়ী। তবে পরদিন সকালেই তাঁর ও তাঁর শিবিরের ফুলে-ফেঁপে ওঠা বেলুনটি চুপসে যায়। বিমর্ষ ট্রাম্প সঞ্চালকের পরিচালনার ত্রুটি-পক্ষপাতিত্ব আর মাইক্রোফোন সমস্যার মধ্যে খুঁজতে থাকেন তাঁর ব্যর্থতার কারণ।

ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় হিলারি শিবিরে। এরই মধ্যে দ্বিগুণ উত্সাহে প্রচারে নেমে পড়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দেহভঙ্গিমাই বুঝিয়ে দেয়, ‘কাচের ছাদ ভাঙার জন্য’ মুখিয়ে আছেন তিনি।

গত সোমবার লং আইল্যান্ডের হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক। পরদিন সকালেই দুই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে দেখা যায় একেবারে বিপরীত মেজাজে। মঙ্গলবার সকালে হিলারি তাঁর প্রচার বিমানে করে নর্থ ক্যারোলাইনার পথে রওনা হন। এ সময় আত্মবিশ্বাস ও সাবলীলতার অনবদ্য মিশেলে উত্ফুল্ল দেখাচ্ছিল তাঁকে। জানালেন, পরের দুটি বিতর্কের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালটি সুন্দরভাবে শুরু করতে পারেননি ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বিতর্ক নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করে যান। বিরক্তি প্রকাশ করেন বিতর্কের সঞ্চালক ও এনবিসির সাংবাদিক লেস্টার হল্টের ওপর। যদিও বিতর্কের দিন সকালেই এই সঞ্চালককে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, খবর পাঠক হিসেবে একসময় দারুণ কাজ করেছেন হল্ট। একই সঙ্গে হল্টকে তিনি নিরপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেন। যদিও পরদিনই মত পাল্টান ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, হল্ট তাঁকে বৈরী প্রশ্ন করেছেন, আর হিলারিকে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। হিলারির ই-মেইল, বেনগাজি ধ্বংস করা প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্নই করেননি হল্ট। আরো অনেক প্রশ্ন করা যেত হিলারিকে। কিন্তু হল্ট সে পথে যাননি। প্রসঙ্গত, এই সঞ্চালক রিপাবলিকান দলের নিবন্ধিত ভোটার।

শুধু হল্ট নয় ট্রাম্প বিরক্ত হয়েছেন তাঁর মাইক্রোফোনটি নিয়েও। তিনি বলেন, ‘আমার মাইক্রোফোনটি নষ্ট ছিল। কেউ হয়তো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই কাজটি করেছেন। ’

যদিও আগের সন্ধ্যাটিই ট্রাম্প পার করেছেন একেবারে বিপরীতভাবে। বিতর্কের পর তিনি দাবি করেন, সব জরিপে তিনিই এগিয়ে। বিতর্কের আগেই লেখা বক্তব্য টেলিপ্রম্পটার দেখে পড়ার সময় তিনি বলেন, ‘৯০ মিনিটজুড়ে আমি দেখলাম তিনি (হিলারি) অতীতেই পড়ে আছেন। একটার পর আরেকটা বিষয় উঠছে, তিনি ব্যাখ্যা দিতেই ঘেমে উঠছেন। চাকরি, নিরাপত্তা বা আমেরিকাকে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে আমাদের পরিকল্পনার বিপরীতে কিছুই বলার ছিল না তাঁর। ’ তবে রাত পোহাতেই তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে ভিন্নতা আসে। নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন তিনি, ‘হিলারি বিব্রত হবেন এমন কিছু আমি বলতে চাইনি। ’ সমালোচনা শুরু হয় তাঁর নিজ শিবির থেকেও। রিপাবলিকান দলের নিবন্ধিত ভোটার করিম সেলস বলেন, ‘তিনি বহু সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। ই-মেইল বা বেনগাজি প্রসঙ্গ টানা উচিত ছিল তাঁর। তিনি নিজেকে পুরোপরি মেলে ধরতে পারেননি। বিতর্কের শেষ পর্যায়ে মেজাজও ধরে রাখতে পারেননি। বিতর্কে না জড়িয়ে তূণে থাকা তীরগুলো ব্যবহার করা উচিত ছিল। ’

তবে আশা ছাড়তে রাজি নয় ট্রাম্প শিবির। তাঁর এক সমর্থক বারবারা জ্যাকসন বলেন, ‘কাকে ভোট দেবেন নিশ্চিত নন এমন ভোটারদের প্রথম বিতর্ক টানতে পারবে না। তবে সমর্থকরা একটি মাত্র সন্ধ্যার কারণে তাঁকে ছেড়ে যাবে না। ’ যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা পরবর্তী বিতর্কে তাঁদের প্রার্থী পুষিয়ে দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ অক্টোবর সেন্ট লুইজের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

হিলারিকে অনুমোদন দিল ‘অ্যারিজোনা রিপাবলিক’ : অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক অ্যারিজোনা রিপাবলিক হিলারি ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এযাবত্কালে পত্রিকাটির ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে সমর্থন করার ইতিহাস নেই। গত মঙ্গলবার পত্রিকাটির অনলাইন এডিশনে এক উপসম্পাদকীয়তে বলা হয়, পত্রিকাটির সম্পাদকীয় কমিটি হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ রিপাবলিকান প্রার্থী রক্ষণশীলও নন, যোগ্যও নন। অ্যারিজোনা রিপাবলিক ছাড়াও সিনসিনাটি এনকুইরের ও ডালাস মর্নিং নিউজও হিলারির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্যে এনকুইরের ১০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো ডেমোক্রেটিক প্রার্থীকে সমর্থন করল। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, এনবিসি।


মন্তব্য