kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পাঁচ নেত্রী গ্রেপ্তার

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



 চট্টগ্রামে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পাঁচ নেত্রী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের কাছে বোয়ালখালী থেকে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পাঁচ নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছে থেকে তিনটি বস্তাভর্তি বই ও প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, আটককৃতদের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সালামের বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এই পাঁচজন হলেন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি শাহনাজ বেগম (২২), সাধারণ সম্পাদক সামিরা আকতার (১৯), বায়তুল মাল সম্পাদক নাহিদা সুলতানা (১৯), রিয়াজুল জান্নাত সুমাইয়া (২০) ও তানিয়া আকতার (১৯)।

তাঁদের মধ্যে শাহনাজ একই উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডী এলাকার আবদুস সালামের মেয়ে। সামিরার বাড়ি শাকপুরা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. ফরিদ। নাহিদা জ্যেষ্ঠপুরার এনামুল হকের মেয়ে। সুমাইয়ার বাড়ি বাঁশখালীর পুঁইছড়ি এলাকায়। তাঁর বাবার আবদুর রহমান। তানিয়া লোহাগাড়া পদুয়া এলাকার আঁধারমানিক গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে। রাতে বোয়ালখালী থানায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এ কে এম এমরান ভূঁইয়া প্রেস ব্রিফিং করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের চাপে জামায়াত-শিবির প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাতে না পেরে তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থাকে দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরের পাশের উপজেলা বোয়ালখালীর বিভিন্ন জায়গায় এ সংগঠন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে অবহিত করে আসছিল। সে কারণে বোয়ালখালীতে এ বিষয় নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রী সংস্থার উপজেলা সভাপতি শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়েছিল কক্সবাজারের চকরিয়ায়। তাঁর স্বামীর নাম রেজাউল করিম। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি তিন বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। এ সুযোগে শাহনাজ বাপের বাড়ি এসে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে আসছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা এমরান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সরকারবিরোধী কার্যক্রমসহ সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁদের কোনো ধরনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ’

বোয়ালখালী থানার ওসি মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার আলাদা দুটি চিঠিতে ইউজিসি  চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধককে এই নির্দেশনা দেয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সমপ্রতি ইসলামী ছাত্রী সংস্থা নামে একটি ছাত্রী সংগঠন কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু নারীদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা করা তথা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির হীন লক্ষ্যে জিহাদি মনোভাবাপন্ন করে তোলার অপচেষ্টা করছে। ’


মন্তব্য