kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

জিএসপি না পাওয়াটা রাজনৈতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জিএসপি না পাওয়াটা রাজনৈতিক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো শর্ত পূরণ বাকি নেই। সব শর্ত ইতিমধ্যে পূরণ করা হয়েছে।

এর পরও কেন তারা আমাদের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয় না তা বোধগম্য নয়। তবে আমি মনে করি, বিষয়টি রাজনৈতিক’।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য সেলিম উদ্দিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরকালেও বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমাদের বক্তব্যে কেরি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবুও আমরা জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। ’ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত সাড়ে সাত বছরে গড়ে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে ৭.৮ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৯ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের আবুল কালামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবার কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নিয়ে প্রথমে কিছুটা সমস্যা থাকলেও এখন তা ঠিক হয়ে গেছে। ট্যানারি মালিকরা এখন নির্ধারিত মূল্যেই চামড়া কিনছেন। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে না। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এটি করা উচিতও নয়। তার পরও এবার ঈদে ট্যানারি মালিকদের অ্যাসোসিয়েশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের প্রথম দিন চামড়ার মূল্য না পাওয়া নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। পরদিন সেটি ঠিক হয়ে যায়। গণমাধ্যমেও এখন এ নিয়ে আর তেমন খবর নেই। ’

আওয়ামী লীগের মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে কয়েকটি পণ্যের মূল্য বেড়েছে। তবে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

সরকারি দলের আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ জানান, সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকার বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীবিক্ষণ করে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কোনো প্রকার সুযোগ যাতে গ্রহণ করতে না পারে সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল কাজ করছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাসাধারণ সহনীয় মূল্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতে পারছে। আর ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের কোনো অসাধু ব্যবসায়ী মহল গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে কাজ করার জন্য সরকার ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’ গঠন করেছে। বিভিন্ন এজেন্সির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ভারত, চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এই তিনটি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের বেশির ভাগই শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

আওয়ামী লীগের আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এমএলএম ব্যবসার নামে কেউ যাতে জনগণকে প্রতারিত করতে না পারে সে লক্ষ্যে সরকার দুটি পৃথক আইন করেছে। এই আইন ও বিধিমালার শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হওয়ায় গত অর্থবছরে কোনো এমএলএম কম্পানির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। আর চলতি অর্থবছরে এমন কোনো কম্পানি আবেদন করেনি।

অতিদরিদ্র অর্ধকোটি পরিবার চাল পাবে : খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গতকাল সংসদে জানান, এ বছর থেকে সরকার সারা দেশে গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি ধরে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম চালু করেছে। সারা দেশে অর্ধকোটি পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ কর্মসূচি প্রতিবছর মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার : সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সফুরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে সরকার থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকার বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানান, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সৌদি আরবের শ্রমবাজার বাংলাদেশের সব ক্যাটাগরির শ্রমিকের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশের কর্মী প্রেরণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


মন্তব্য