kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপি নেতা হান্নান শাহ মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপি নেতা হান্নান শাহ মারা গেছেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম হান্নান শাহ গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হার্ট সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তাঁর ছেলে রিয়াজুল হান্নানের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

হান্নান শাহর পরিবারের বরাত দিয়ে দলীয় চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য শায়রুল কবির খান কালের কণ্ঠকে জানান, আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে তাঁর লাশ ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে। কয়েক দফা জানাজা শেষে আগামী শুক্রবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ গ্রামের বাড়ি চালা বাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে দলীয়ভাবে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা আ স ম হান্নান শাহর মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বার্তায় তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ ছাড়া এলডিপি, লেবার পার্টিসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। মৃত্যুর খবর পেয়ে সকাল ৯টায় মহাখালীর ডিওএইচএসে তাঁর বাসায় ছুটে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি নেতারা জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর মহাখালী ডিওএইচএসের বাসা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে বের হওয়ার সময় হান্নান শাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১১ সেপ্টেম্বর এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার (এনজিওপ্লাস্ট) করে হৃদযন্ত্রের ধমনিতে চারটি রিং পরানো হয়েছিল। তিনি স্ত্রী নাহিদ হান্নান, দুই ছেলে শাহ রেজাউল হান্নান, শাহ রিয়াজুল হান্নান ও এক মেয়ে শারমিন হান্নানকে রেখে গেছেন।

দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, হান্নান শাহর মৃত্যুতে বিএনপি চার দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া শোক কর্মসূচি চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত। এ সময় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। আগামী শুক্রবার সারা দেশে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৪১ সালের ১১ অক্টোবর গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়া গ্রামে জন্ম নেন হান্নান শাহ। তাঁর বাবা ফকির আবদুল মান্নান ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর ছোট ভাই শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া হান্নান শাহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্য বাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮১ সালে ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা সদস্যের হাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থেকে তাঁর মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ। এইচ এম এরশাদের সরকার হান্নান শাহকে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। পরে তিনি সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (এপিডি) ও বিএডিসির চেয়ারম্যানও ছিলেন।

১৯৮৩ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন হান্নান শাহ। শুরুতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৮৬-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) এবং ১৯৯৩-২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে ১/১১-এর কঠিন সময়ে তিনি খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ষষ্ঠ কাউন্সিলেও তিনি এ পদে পুনর্নির্বাচিত হন।

হান্নান শাহ দুইবার গাজীপুর-৪ আসন (কাপাসিয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ছিলেন।

গাজীপুর থেকে আমাদের আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহর মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর নিজ জেলা গাজীপুরে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শোকার্ত হয়ে পড়েছে। তারা বলছে, তাদের কাছে হান্নান শাহ ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। তাঁর মৃত্যুতে তারা একজন অভিভাবক হারালেন।

 


মন্তব্য