kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানা বন্ধে ভারতে তোড়জোড়

দুই দেশের বৈঠক শুরু ৩০ সেপ্টেম্বর

সরোয়ার আলম   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানা বন্ধে ভারতে তোড়জোড়

মাদক নির্মূলে দেশে চলছে নানা প্রচেষ্টা। আর এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত ফেনসিডিলের সহজলভ্যতা।

এ জন্য ভারতের সীমান্তে গড়ে ওঠা ৩০৯টি ফেনসিডিল কারখানা ধ্বংস করতে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। অবশেষে তাতে সায় মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাস দুয়েক আগে ৫০টি কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে সে দেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাকিগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁরা জানান। এ অবস্থায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে দুই দেশের সীমান্ত বৈঠক। তাতেও প্রাধান্য পাবে ফেনসিডিল ইস্যু।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ফেনসিডিল বন্ধ করতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা তিন শর বেশি কারখানা বন্ধ করতে সরকার বিশেষভাবে অনুরোধ জানালে তাতে ভারত সাড়া দিয়েছে।

সূত্র জানায়, সীমান্তঘেঁষে ভারতের মাটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফেনসিডিল কারখানা। মূলত বাংলাদেশি মাদকসেবীদের টার্গেট করেই এ অবৈধ বাণিজ্য। সীমান্ত থেকে পাঁচ-সাত কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা কারখানা থেকে ফেনসিডিল চালান নানা পথে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ফেনসিডিল দেশে ঢুকছে বলে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। দিনাজপুর, আখাউড়াসহ ৬১২টি পয়েন্ট ফেনসিডিল ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। কারখানাগুলো বন্ধ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুই দেশের সীমান্ত বৈঠকগুলোতে এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করে আসছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (এনসিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, অর্ধশত কারখানা মাস দুয়েক আগে বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। এ অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মাদকসহ চোরাচালান বন্ধের বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে থেকে মাদক বাণিজ্য চালাচ্ছে এমন ৫০০ জনের তালিকা দিয়েছে বিএসএফ। এই তালিকা ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আমরাও তাদের একটি তালিকা দিয়েছি। তাতে রয়েছে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়িতে স্থাপন করা ফেনসিডিল কারখানার তথ্য। ’


মন্তব্য