kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মন্ত্রী এমপিদের দিকে চোখ এনবিআরের

ফারজানা লাবনী   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মন্ত্রী এমপিদের দিকে চোখ এনবিআরের

সংসদ সদস্য (এমপি), মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের আয়-ব্যয়, সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ বিষয় তদন্তে সম্প্রতি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখার (সিআইসি) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল এবং ট্যাকসেস অ্যান্ড লিগ্যাল এনফোর্সমেন্ট শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৩১ সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যেকের বিষয়ে তথ্য নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের কাছ জমা দেওয়া হবে। কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনাকারে উপযুক্ত প্রমাণসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এনবিআর এ তদন্ত করছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এনবিআরের এ টাস্কফোর্স কমিটি তদন্তের প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিসহ (বিআরটিএ) দেশের মধ্যে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিদেশের কোনো বিষয়ে তদন্তে সে দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে পারবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সব করদাতাই এনবিআরের কাছে সমান এবং সম্মানিত। করদাতাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া এনবিআরের নিয়মিত কাজের অংশ।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়, সম্পদের খোঁজ নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে এ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাস্কফোর্সের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রী, এমপি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়, সম্পদ খতিয়ে দেখছে। এর অংশ হিসেবে সম্পদ বিবরণীর প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। ব্যক্তিবিশেষের দুর্নীতির দায় সরকার নিতে চায় না বলেই এ প্রস্তুতি। সম্পদের তদন্ত করা মানেই সে অর্থে দুর্নীতিবাজ ধরা নয়।

এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটি আয়করের রিটার্নের তথ্যও খতিয়ে দেখবে। দায়িত্ব গ্রহণের আগের বছর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আয়কর রিটার্নের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এনবিআরের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য আছে কি না তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।

এনবিআরের টাস্কফোর্স একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা এমপি কত মূল্যের কয়টি গাড়ি ব্যবহার করছেন, ব্যবহৃত গাড়িটি বা গাড়িগুলো কবে কেনা হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করবে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় কারো নামে গাড়ি আনা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যবহার করছেন নাকি তা গোপনে সমঝোতায় বিক্রি করেছেন তা বিশেষভাবে তদন্ত করা হবে। একইভাবে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত গাড়ির বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে। ব্যবহৃত গাড়ি বা গাড়িগুলো প্রকৃত শুল্ক পরিশোধ করে আনা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের আগে মন্ত্রী, এমপিদের কয়টি গাড়ি ছিল বর্তমানে কয়টি আছে তা মিলিয়ে দেখা হবে। তথ্য যাচাই করতে বিআরটিএর সহযোগিতা নিতে পারবে এনবিআরের টাস্কফোর্স কমিটি।  

মন্ত্রী, এমপি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ কত তার তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। গচ্ছিত অর্থ বৃদ্ধির পরিমাণ, একক বা যৌথ নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর, যেকোনো মেয়াদি আমানতের হিসাব, যেকোনো ধরনের বা মেয়াদের সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড, ভল্ট, সঞ্চয়পত্র বা যেকোনো সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে বন্ধ আছে বা চলমান সব হিসাবই যাচাই করা হবে তদন্তে।

এনবিআরের তদন্তে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে-পরে নিজস্ব মালিকানায় সরকারি প্লট পেয়েছে কি না তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া নামে-বেনামে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাটের তথ্যও যাচাই করা হবে। এসব সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষভাবে কোনো ধরনের প্রভাব খাটিয়ে বা দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ সংগ্রহ হয়েছে কি না তা দেখতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। যে দেশে বেশি ভ্রমণ করেছেন সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অবৈধ-বৈধ সম্পদ কেনা বা অর্জনের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। কারো পরিবার বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট দেশে তাঁদের সম্পদ অর্জনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সম্পদ অর্জন বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে গিয়ে বিদেশে অর্থ পঠিয়েছে কি না তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।


মন্তব্য