kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে সোনার দোকান লুট

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জে সোনার দোকান লুট

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সোনার অলংকার বিক্রির একটি দোকানে গতকাল সোমবার রাতে ডাকাতি হয়েছে। গোবিন্দ জুয়েলার্স নামের ওই দোকানের মালিক কর্তৃপক্ষের দাবি, সশস্ত্র ডাকাতরা কর্মচারীদের জিম্মি করে প্রায় ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার ও তিন লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

যাওয়ার সময় ডাকাতরা দোকানের সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরার যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা বাজার এলাকায় কালাচান প্লাজা মার্কেটের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।

গোবিন্দ জুয়েলার্সের কর্মচারী সুমনের ভাষ্য মতে, ‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১০-১২ জন যুবক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের দোকানের ভেতর ঢোকে। তারা দোকানের মালিক গোবিন্দ চন্দ্র বর্মণ ও ম্যানেজার (মালিকের শ্যালক) তপন বর্মণকে দোকান থেকে বের করে দেয়। ডাকাতদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে পিস্তল ও বাকিদের হাতে চাপাতি ছিল। দোকানের আরেক কর্মচারী নারায়ণ বাধা দিতে গেলে এক ডাকাত তাঁকে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে। ডাকাতরা দোকানের শোকেস ও ভল্ট থেকে প্রায় ৮০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ক্যাশ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করে। ডাকাতি শেষে ককটেল ছুড়তে ছুড়তে তারা পালিয়ে যায়। ’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ডাকাতদের ছোড়া ককটেলে ফুটপাতের চটপটি বিক্রেতা রাজ্জাক (৩৫) ও পাপোশ বিক্রেতা শাহাদাত (৩৮) আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। খবর পেয়ে র‌্যাব, পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।

দোকানের মালিক গোবিন্দ চন্দ্র বর্মণ দাবি করেন, ডাকাতরা প্রায় ৮০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে গেছে, যার মূল্য প্রায় ৩২ লাখ টাকা। তিন লাখ টাকাও নিয়ে গেছে তারা। প্রায় ৩০-৩৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ডাকাতরা। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তারা দোকান খালি করে পালিয়ে যায়। কারো মুখেই কোনো মুখোশ ছিল না।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারি জিন্নাত আলী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেহেতু দুর্বৃত্তরা মুখোশ পরে আসে নাই, তাই বলা যেতে পারে তারা কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য না। ধরন দেখে মনে হয়েছে, ডাকাতরা দীর্ঘদিন ধরেই জুয়েলার্সটির ওপর নজর রাখছিল। কোথায় কী আছে, কখন আসলে সুবিধা হবে—সব কিছু তাদের জানা ছিল। এমনকি সিসি ক্যামেরার বক্সটি কোথায় থাকে সেটিও জানা ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ’

 


মন্তব্য