kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বখাটের অত্যাচার

নিজেই সরে গেল ডালিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নিজেই সরে গেল ডালিয়া

স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই ডালিয়ার পথ আটকাত হামিদ। এ নিয়ে বিচার-সালিস হয়েছে, কিন্তু ফল মেলেনি।

একসময় ঢাকায় বড় ভাইয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ডালিয়াকে। ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি ফিরলে আবারও হামিদ ‘পথ আগলায়’। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে জীবনের পথ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছে ক্লাস সিক্সে পড়া এই কিশোরী। গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গলায় দড়ি দেয় সে।

ডালিয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের ভলাকুট কেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বাবা খেলু মিয়া ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। বখাটে হামিদ ভলাকুট গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে।

এদিকে পুলিশ গতকাল সোমবার সকালে ডালিয়ার লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ডালিয়ার বাবা বখাটে হামিদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নাসিরনগর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ আঙ্গুর মিয়া নামের এজাহারনামীয় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডালিয়ার এমন মৃত্যুতে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্কুলের সহপাঠীসহ অন্যরা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, বখাটেপনার অত্যাচার সইতে না পেরেই মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

ডালিয়ার বাবা খেলু মিয়া জানান, বখাটে হামিদ প্রায়ই তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে গ্রামে সালিসও হয়। হামিদ আর কখনো এমন করবে না বলে পরিবারের লোকজন নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকায় ছেলের বাসায় চলে যান। ঈদের সময় আবার তিনি বাড়িতে আসেন। হামিদ আবারও ডালিয়াকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। মোবাইল ফোনেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।

ডালিয়ার সহপাঠী ইশা আক্তার, রায়হান তালুকদার, শিমু আক্তার ও জেসমিন জানায়, ডালিয়া ক্লাসে নিয়মিত ছিল। হামিদ নামের এক বখাটে তাকে উত্ত্যক্ত করত বলে সে প্রায়ই অভিযোগ করত।

ভলাকুট কেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, গত ১৪ আগস্ট ডালিয়া সর্বশেষ স্কুলে আসে। ডালিয়াকে একটি ছেলে উত্ত্যক্ত করলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্কুলের কারো কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। এ ঘটনার জন্য দায়ী হামিদের বিচার দাবি করেন তিনি।

ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাকী বিল্লাহ জুয়েল বলেন, ‘এ বিষয়ে নালিশ এলে হামিদ ও তার পরিবারের লোকজনকে কড়াভাবে শাসিয়ে দিই। এর পরও যে ছেলেটি উত্ত্যক্ত করত তা আমাদের জানায়নি ডালিয়ার নিরীহ পরিবার। শুনেছি, মেয়েটি নাকি একটি চিরকুটে হামিদের নামও লিখে গেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি’।

নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘বখাটেপনার যন্ত্রণাতেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আঙ্গুর মিয়াকে আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের গ্রেপ্তারেও চেষ্টা চলছে। চিরকুটের বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। ’


মন্তব্য