kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফারুক হত্যা মামলা

জামিন আবেদন নামঞ্জুর এমপি রানার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জামিন আবেদন নামঞ্জুর এমপি রানার

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল সোমবার সকালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য রানার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (প্রথম) জামিনের আবেদন করেন।

শুনানির পর বিচারক আবুল মনসুর মিয়া আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সে দিনও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। টাঙ্গাইল কারাগারের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে পরদিন তাঁকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইল পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার আইনজীবীরা আদালতে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত এই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

অশোক কুমার জানান, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি ফারুক হত্যা মামলায় আদালতে মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ৬ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত সংসদ সদস্য রানা এবং তাঁর তিন ভাইসহ পলাতক ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পলাতকদের মধ্যে তিনজন আত্মসমর্পণ করেছেন। সংসদ সদস্য রানার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি নাসির উদ্দিন নূরু ও সাবেক পৌর কমিশনার মাছুদুর রহমান মাসুদ। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (প্রথম) আত্মসমর্পণের পর তাঁদের টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়। পলাতক অন্য সাতজনের মধ্যে রয়েছেন রানার তিন ভাই—টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। অন্য চারজন হলেন রানার ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, দারোয়ান বাবু ওরফে দাঁতভাঙা বাবু, তৎকালীন যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন চান ও ছানোয়ার হোসেন ছানু।

মামলার অন্য আসামি আনিসুর রহমান রাজা, মোহাম্মদ আলী, ফরিদ আহমেদ ও সমীর ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁর কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরপর আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে এ দুজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে সংসদ সদস্য রানা ও তাঁর তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি আসে। এর পরই তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।

 


মন্তব্য