kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রাম নগর বিএনপি

দীর্ঘদিন পর ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দীর্ঘদিন পর ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।

প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে নগর বিএনপি ছিল পাঁচ সদস্যের। নেতাদের কোন্দলের কারণে একাধিকবার চেষ্টার পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এ ছাড়া ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক অবস্থা আরো বেহাল। বেশির ভাগ ওয়ার্ডে আট থেকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সম্মেলন হচ্ছে না।

অবশেষে গত ৬ আগস্ট কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি (অপূর্ণাঙ্গ) ঘোষণার পর এখানে দলকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেন নেতারা।

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি হওয়ার ৫০ দিন পর গতকাল সোমবার নগরের ৪১টি ওয়ার্ড শাখার কমিটির মধ্যে ৩৯টিই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জন্য আহ্বায়ক কমিটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল ৩২টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। অন্য সাতটি ওয়ার্ডে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। এ ছাড়া এক মাসের মধ্যে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ঘোষণাও এসেছে।

গতকাল দুপুরে নগরের এসএস খালেদ সড়কের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘোষণা দেন মহানগর বিএনপির নতুন সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, তৃণমূলে কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব পেতে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট তিনটি পদে নেতাদের নাম জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি। গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি, আবু সুফিয়ানকে সহসভাপতি ও সাবেক যুবদল নেতা আবুল হাসেম বক্করকে নতুন নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আগের কমিটির সভাপতি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম নগর বিএনপির তিন নেতার মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকলেও সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে দেখা যায়নি।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের দুটি ওয়ার্ড বিএনপি কমিটির মেয়াদ শেষ না হওয়ায় সেগুলো বহাল রাখা হয়েছে। বিলুপ্ত ৩৯টি ওয়ার্ড কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হবে। সে জন্য ৩২টি ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। বাকি সাতটি ওয়ার্ডে আহ্বায়ক কমিটি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটিতে যাঁরা আহ্বায়ক হয়েছেন তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচন করতে চাইলে পদত্যাগ করতে হবে। ’

ওয়ার্ড কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করে শাহাদাত বলেন, ছয় থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরনো কমিটি আছে। এসব ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটিতে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও নেই। নগরের ৪১টি ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে শুধু ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী এবং ১০ নম্বর কাট্টলী ওয়ার্ড কমিটিরই মেয়াদ আছে।

শাহাদাত জানান, ওয়ার্ড শাখা আহ্বায়ক কমিটিতে সর্বনিম্ন ৩১ সদস্য ও সর্বোচ্চ ৫১ সদস্য রাখা যাবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে গঠিত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে তাদের কাজ শুরু করবে। এই মাসে নির্দিষ্ট ফরমে সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। নিজ এলাকার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ফরম নিতে পারবে। নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহ মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও শেষের ১৫ দিন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাবেন। ডিসেম্বর মাসে পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হবে। ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ওয়ার্ড কমিটি করা হবে। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পদে সরাসরি নির্বাচন হবে।

নগর বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন এক নেতার এক পদ। তাই আমি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে বাকলিয়া থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু আজ থেকে সেই পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম। একইভাবে অন্যান্য নেতাও কেবল একটি পদেই থাকতে পারবেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে সাতটি ওয়ার্ডের আহ্বায়কের নাম ঘোষণা না হওয়ায় কয়েকজন নেতাকর্মী তাৎক্ষণিক নগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। এ সময় শাহাদাত ওই নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সব ঠিক করে দেব। এখানে কথা বলো না। ’ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা তো আছি, আমরা দেখব। এখনই এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নেই। ’

সম্প্রতি বিএনপির ৫০২ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে চট্টগ্রামে আবদুল্লাহ আল নোমানকে সহসভাপতি পদে রাখা হয়েছে। আগের কমিটিতেও তিনি এই পদে ছিলেন। এই কমিটি ঘোষণার পর থেকে আবদুল্লাহ আল নোমানকে মূল্যায়ন করা হয়নি—এমন দাবি করে তাঁর অনুসারীরা চট্টগ্রামে আন্দোলন শুরু করে। নোমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ছয় সদস্যের গত কমিটির সহসভাপতি পদে থাকা আবু সুফিয়ানকে এবারও একই পদে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। কমিটি হওয়ার পর থেকে নগর বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে সুফিয়ানকে দেখা যাচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

দলীয় কোন্দলের কারণে আবু সুফিয়ান সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কমিটি গঠনের পর থেকে সুফিয়ান ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের প্রতিদিন কথা হচ্ছে। আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি আছেন। ’

সদ্য ঘোষিত বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আবদুল্লাহ আল নোমান স্থান না পাওয়ার বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় শাহাদাতের কাছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্ট্যান্ডিং কমিটিতে এখনো দুটি পদ খালি আছে। আশা করি, চট্টগ্রামের যাঁরা বাদ পড়েছেন তাঁরা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে স্থান পাবেন। ’

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতি ও ডা. শাহাদাত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। ওই কমিটি গঠনের কিছুদিন পর সিনিয়র সহসভাপতি দস্তগীর চৌধুরী মারা যান।


মন্তব্য