kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই নবজাতক মারাই গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা ও ফরিদপুর   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই নবজাতক মারাই গেল

দাফনের আগ মুহূর্তে কেঁদে ওঠা ফরিদপুরের সেই নবজাতক গালিবা হায়াতকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না। গতকাল রবিবার রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও তার পরিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে।

স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক আফতাব ইউসুফ রাজ জানান, রাত ১০টার দিকে নবজাতক গালিবার মৃত্যু হয়। সে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল।

নবজাতকের চাচা শামীমুল হক তালুকদারও মোবাইল ফোনে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান সুখন নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর দুই বন্ধুর সহায়তায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে গতকাল বিকেলে স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, শিশু গালিবা হায়াতের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আফতাব ইউসুফ রাজ জানান, অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় শিশুটির শরীর ভালো নেই। নবজাতকটি জন্মগ্রহণের পর অযত্ন-অবহেলা এবং কবরস্থানের মতো জায়গায় থাকার কারণে ইনফেকশন হয়েছে। শরীরে রক্ত রাখা যাচ্ছে না। তাই চিকিৎসা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জন্মের পর উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো না। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নবজাতকের বাবা ঢাকা ডিভিশনের প্রথম বিভাগের ক্রিকেটার নাজমুল হুদা মিঠু ও মা অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফরিদপুর ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে পাঁচ মাস ২২ দিনের মাথায় কন্যাশিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়। তখন হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। এর ছয় ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে দাফনের আগ মুহূর্তে শিশুটি কেঁদে ওঠে।  

এদিকে নবজাতক গালিবা হায়াতকে মৃত ঘোষণা করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স এবং নবজাতকের স্বজন ও গোরখোদকের সাক্ষ্য নিয়েছে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, নবজাতকটির জন্ম নেওয়া ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমে অসংগতি পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জন কর্তৃক গঠিত দুটি তদন্ত কমিটিই কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে হাসপাতালের তদন্ত কমিটি ছয় সদস্য নিয়ে পুনর্গঠিত হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে এম কামরুজ্জামান সেলিম গতকাল সাংবাদিকদের জানান, পুনর্গঠিত তদন্ত কমিটি রবিবার দুপুর থেকেই কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ডা. রিজিয়া আলমসহ দুই চিকিৎসক, সেবিকা, শিশুর দাদা ও দাদি এবং গোরখোদক ও কবরস্থানের মাওলানার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আজ সোমবার তদন্ত কমিটি আবার সভা করবে। সেই সভায় তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হবে।


মন্তব্য