kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।

অসময়েও লোডশেডিং!

আরিফুজ্জামান তুহিন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অসময়েও লোডশেডিং!

ভাপসা গরম তূলনামূলক কমেছে, বৃষ্টিও হচ্ছে নিয়মিত। কিন্তু থামছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং। অথচ বছরের এ সময়টায় এসে লোডশেডিং ধীরে ধীরে কমে আসার কথা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোরেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গতকাল রবিবারই যেমন ধানমণ্ডি ১৫ নম্বর এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায় ভোর সাড়ে ৪টায়। আসে এক ঘণ্টা পর। বিদ্যুতের চাহিদা দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশি থাকে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আর রাতের বেলা বেশি চাহিদা থাকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এ দুই সময়কে বিদ্যুতের পিক আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ধরা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় দুই পিক আওয়ারে লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি ‘পিক আওয়ার নয়’, এমন সময়ও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।  

সরকারের দেওয়া তথ্য মতে, প্রতিদিন গড়ে ঘণ্টায় সাড়ে সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। চাহিদার পুরোটাই উৎপাদন করতে পারছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের কোথাও লোডশেডিং নেই। পিডিবির কর্মকর্তারাও বলছেন, উৎপাদনে কোনো সংকট নেই, লোডশেডিংও নেই। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না বা চলে যাচ্ছে, তা হচ্ছে মূলত সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে।

জানা যায়, রাজধানীর ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকার ওয়ারী, চানখাঁরপুল, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি) এলাকায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি। আরেক বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডেসকো) এলাকায়ও রয়েছে লোডশেডিং। ডেসকোর উত্তরা, বনানী, গুলশান ও মিরপুর এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার দুই বিতরণ কম্পানির এলাকায় গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকার বাইরেও একই অবস্থা। কোনো কোনো জায়গায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ লোডশেডিং সম্পর্কে বাড়িয়ে বলছে।   দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গত শনিবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ঘণ্টাপ্রতি গড়ে চার হাজার ৫৩২ মেগাওয়াট। এ সময় পল্লী বিদ্যুৎকে দেওয়া হয়েছে চার হাজার ৯৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৪৩৫ মেগাওয়াট।

পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দাবি, ৪৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দিনের অর্ধেক সময় লোডশেডিং থাকার কথা নয়। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের জন্য বিদ্যুতের উৎপাদনজনিত সংকট দায়ী নয়, মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।    

পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা নেই। আগের নিয়মেই বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রয়েছে। সমস্যা হলো বিতরণ ও সঞ্চালনে। আর এ কারণেই কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। পিডিবির ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সারা দেশে সন্ধ্যা নাগাদ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল সাত হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। এ সময় দেশের কোথাও লোডশেডিং ছিল না।

পল্লী বিদ্যুতের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রাঙামাটিতে লোডশেডিং ছিল।  

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চট্টগ্রাম এলাকায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি। কারণ সঞ্চালন লাইনের ওভারলোড ও নাজুক অবস্থা সঞ্চালনব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অথচ এ এলাকায় গত ছয় বছরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সম্প্রতি বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কম্পানির (পিজিসিবি) দেওয়া প্রতিবেদনেও এ চিত্র উঠে এসেছে।

পিজিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য দ্বিগুণ পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলেও নাজুক ও ওভারলোড গ্রিডের কারণে লোডশেডিংয়ে ভুগছে চট্টগ্রামবাসী।

এ বিষয়ে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা নেই। কোথাও বিদ্যুৎ না থাকলে সেটা বিতরণ সংস্থার কোনো সংকটের কারণে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘোড়াশাল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে সমস্যায় পড়েছিলাম। সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ মুহূর্তে যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই উৎপাদন আমরা করছি। এ কারণে লোডশেডিং শূন্যের ঘরে রয়েছে। ’


মন্তব্য