kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইলিশে ভরপুর বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইলিশে ভরপুর বাজার

চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে ইলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ায় দেশের বাজারগুলো ভরপুর রুপালি ইলিশে। গত কয়েক বছরের মধ্যে দাম বেশ কম হওয়ায় সাধারণ মানুষও এবার প্রাণভরে নিতে পারছে ইলিশের স্বাদ।

তবে দিন যতই যাচ্ছে, ততই সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুস্বাদু এই মাছের দাম। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পেয়েছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়, যা তিন-চার দিন আগেও বিক্রি হয়েছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়। এ ছাড়া এক কেজির কিছু বেশি ওজনের ইলিশ হালিপ্রতি তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে শান্তিনগর ও ফকিরাপুল বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ হালিপ্রতি তিন হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ টাকায় এবং এক কেজির কিছু বেশি ওজনের ইলিশ হালিপ্রতি চার হাজার থেকে চার হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গতকাল সকালে শান্তিনগর বাজার থেকে এক কেজির বেশি ওজনের এক হালি মাছ কেনেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকতা মাহবুবুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসায় রাতে বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছি, তাই বড় সাইজের এক হালি ইলিশ কিনলাম। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকলেও গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা দাম বেড়েছে। ’ তিনি জানান, একই সাইজের এক হালি ইলিশ গত সপ্তাহে কিনেছিলেন তিন হাজার ৫০০ টাকায়, যা গতকাল কিনতে হয়েছে তিন হাজার ৮০০ টাকায়।

ইন্দিরা রোডের বাসিন্দা রফিক আনোয়ার এসেছিলেন কারওয়ান বাজারে। বাজার ঘুরে বড় আকারের দুই হালি ইলিশ কিনেছেন চার হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো চাকরি করি, তাই আগে কখনো ইলিশের দাম জানতেও চাইতাম না। তবে এবার ইলিশের দাম কমায় বেশি করে কিনে রাখছি। ’ বাজারে ইলিশ মাছের আমদানি অনেক বাড়লেও সে তুলনায় দাম খুব বেশি কমেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কারওয়ান বাজারে মাছ বিক্রেতা ফজর আলী বলেন, ‘এই মৌসুমের মতো এত কম দামে ইলিশ বিক্রি আমি আর কখনো দেখিনি। জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে আমদানিও বেড়েছে। ফলে দাম কমেছে। এখন তো পাঙ্গাশের দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ’

দুই ধরনের ইলিশ নিয়ে বাজারে এসেছেন ফজর আলী। তিনি বলেন, ‘দেখতে এক হলেও দামে পার্থক্য আছে। একটি পদ্মার ইলিশ, আরেকটি টেকনাফের ইলিশ। টেকনাফ থেকে আসা ইলিশের দাম পদ্মার ইলিশের চেয়ে অনেক কম। টেকনাফের ইলিশের চেয়ে পদ্মার ইলিশ স্বাদে ভালো হওয়ায় দামটা অনেক বেশি। ’

ইলিশের এই রমরমা কেনাবেচায় নিস্তেজ অন্য মাছের বাজার। ইলিশের বাজারে তারা যেন শুধুই দর্শক। কারওয়ান বাজারে চিংড়ি নিয়ে এসেছেন মাছ বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বসে আছি, বিক্রি নেই। সবাই এখন ইলিশের ক্রেতা। ’

চাঁদপুর প্রতিনিধি ফারুক আহম্মদ জানান, মেঘনাপাড়ে ইলিশের রাজধানীখ্যাত চাঁদপুরের আকাশে-বাতাসে ইলিশের গন্ধ। তবে এত দিন যতটা সস্তা ছিল, ততটা সস্তা এখন আর নেই। গত তিন-চার দিনে দাম কিছুটা বেড়েছে। এক কেজি ওজনের প্রতি হালি ইলিশ সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ভূইয়া কালের কণ্ঠকে জানান, দুই সপ্তাহ ধরে চাঁদপুরে ইলিশের মোকাম বেশ জমজমাট। প্রতিদিনই আড়াই থেকে তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। গতকাল এক কেজি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার টাকা; ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ইলিশ মণপ্রতি ২৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত ক্রেতা এখানে ইলিশ কিনতে আসছে।

ব্যবসায়ী সুমন খান জানান, শহরের বড় স্টেশন আড়তে মূলত সাগর মোহনা এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে ধরা ইলিশ বিক্রি হয়। এসব মাছের স্বাদ-গন্ধেও তারতম্য রয়েছে। মোহনা এবং দক্ষিণাঞ্চলে ধরা ইলিশের স্বাদ ও গন্ধ সাগরের মাছের চেয়ে বেশি সুস্বাদু।

ভোলা প্রতিনিধি শিমুল চৌধুরী জানান, উপকূলীয় জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও দাম সে তুলনায় কমেনি। এখানকার বাজারে এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়। আর জাটকার হালি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা ক্ষুব্ধ। তারা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছে।

তবে বিক্রেতারা বলছে, নদীতে আগে বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও এখন কম ধরা পড়ছে, তাই দামও বেড়েছে। আর মাছ বেপারীরা বলছে, ভরা মৌসুমে ইলিশ ধরা পড়েনি। তাই জেলেদের সেই চাহিদা এখনো পূরণ হয়নি। তাদের চাহিদা পূরণ হওয়ার পর দাম কমবে।

বরিশাল অফিসের মঈনুল ইসলাম সবুজ জানান, নগরের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী মানিক বিশ্বাস ২০ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ‘এক যুগের মধ্যে এত পরিমাণ ইলিশ আড়তে আসতে দেখিনি। আর এত কম দামে বিক্রিও করিনি। এর পরও এ বছর কয়েক গুণ বেশি লাভ হয়েছে। ’

নগরের ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে ছিল ইলিশ। ইলিশের দাম কম থাকায় এবার এক হাজার ৫০ টাকা কেজি ধরে ১০ কেজি ইলিশ কিনেছি, গত বছর এই সাইজের ইলিশ এক হাজার ৬০০ টাকা দরেও কেনা যায়নি। ’

জেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস বাবু জানান, গতকাল এক হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ৫২ হাজার টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ৪০ হাজার টাকা, ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকায়, ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহে বড় ইলিশের দাম মণপ্রতি এক থেকে দুই হাজার টাকা বেড়েছে।

সিলেট অফিস জানায়, সারা দেশে ইলিশের দাম কম হলেও সিলেটের ক্রেতারা এর সুফল তেমন পাচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এবার বাজারে ইলিশের উপস্থিতি বেশি হলেও দাম খুব বেশি কমেনি। এবার গতবারের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম কমেছে বলে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছে।

গতকাল সিলেটের বন্দরবাজারের লাল বাজারে ইলিশ কিনতে আসেন জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, টেলিভিশন-পত্রিকায় যেভাবে বলা হয়েছে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় সস্তায় ইলিশ কেনা যাচ্ছে। বিষয়টা সে রকম নয়। অন্য সময়ের তুলনায় এবার দাম কেজিতে বড়জোর ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমে কেনা যাচ্ছে। মাছ বিক্রেতা সাব্বির আহমদ বললেন, গত বছর এই সময়ে মাঝারি সাইজের ইলিশের কেজি ছিল ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, এখন মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক নিয়ামুল কবীর সজল জানান, শহরের বাজারগুলোতে এখন ইলিশের ছড়াছড়ি। দাম নাগালের মধ্যে হওয়ায় ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে ইলিশ কিনছে। শহরের অন্যতম বড় বাজার মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাছের আড়তে ৮০ শতাংশ মাছ ব্যবসায়ীর কাছে শুধুই ইলিশ। যারা অন্য সময়ে অন্য মাছ বিক্রি করত, তারাও এখন ইলিশ বিক্রি করছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, ময়মনসিংহের বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি ইলিশ পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা করে। চাঁদপুরের ছোট ইলিশ প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে। ব্যবসায়ী দিলীপ দাস জানান, এবারের মতো কম দামে ইলিশ বহুদিন বিক্রি হয়নি। এ ছাড়া ইলিশও আসছে প্রচুর। ময়মনসিংহ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তা শেখ বাহার মজুমদার জানান, ইলিশের দাম কম হওয়ায় এবার প্রতিষ্ঠানের অনেকেই একসঙ্গে ইলিশ কিনেছেন।

বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক লিমন বাসার জানান, জেলার বাজারগুলোতে এখন ইলিশের রাজত্ব চলছে। দামও মধ্যবিত্তের নাগালে। এক মাস আগেও উচ্চ মূল্যের কারণে বাজারে ইলিশের চাহিদা ছিল খুবই কম। টিসিবির মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বগুড়ার প্রধান বাজার রাজাবাজারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি ইলিশের দাম ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। ফলে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৪৮.৭৮ শতাংশ কমেছে।

বিক্রেতা কালাম মিয়া বলেন, ‘৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৪০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। ’

যশোর থেকে বিশেষ প্রতিনিধি ফখরে আলম জানান, জেলার বড় বাজারে মাছের আড়তে প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। বরিশাল, পাথরঘাটা, মহিপুর থেকে ট্রাকবোঝাই হয়ে আসছে ইলিশ। ২৫টি পাইকারি আড়তে বিক্রি হচ্ছে সেই ইলিশ। এ ছাড়া শতাধিক ব্যবসায়ী খুচরা ইলিশ বিক্রি করছে। দাম আকার ভেদে প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। জাটকা আর নরম ইলিশের দাম প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। এক কেজি কিম্বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। গরিব মানুষ ইলিশ কিনতে বাজারে আসছে। মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তের অনেকেই ৫-১০ কেজি ইলিশ কিনে ফ্রিজে কিম্বা ‘নোনা’ ইলিশ তৈরি করে রাখছে।

ব্যবসায়ী আশরাফ আলী বলেন, ‘আগে আমরা চার-পাঁচজন ইলিশ বিক্রি করতাম। এখন প্রায় ১০০ জন খুচরা ইলিশ বিক্রি করছে। দুই-দশ বছরের মধ্যে ইলিশের এত আমদানি ঘটেনি। কম দামে ইলিশ বিক্রি করতে পেরে আমরা যেমন খুশি, তেমনি ক্রেতার মুখেও হাসি ফুটেছে। ’ বেজপাড়ার দেবু মল্লিক বলেন, ‘গত বছর ইলিশের মুখ দেখিনি। এবার কয়েকটি ইলিশ কিনে শর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ খেয়েছি। আগের মতো স্বাদও পেয়েছি। ’

রাঙামাটি প্রতিনিধি ফজলে এলাহী জানান, মাত্র এক দিন আগেই ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রবিবার বিকেলে তা ৮০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। শহরের বনরূপা বাজারের বিক্রেতা সেলিম বলেন, ‘আগের দিন পর্যন্ত ইলিশের যে সরবরাহ ছিল, রবিবার আর সেটা নেই। ফলে চট্টগ্রামের বাজারেও বেড়েছে ইলিশের দাম। মাত্র এক দিন আগে যে মাছ আমরা ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এক দিন পরই সেটা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছি। আমি তবু ঝুঁকি নিয়ে এনেছি, অন্যরা দাম বেড়ে যাওয়ায় ইলিশই আনেনি। ’

নরেশ চাকমা নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘ইলিশের দাম কমেছে শুনে বাজারে এসেছি; কিন্তু আজ দেখি দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তবু সন্তানদের আগ্রহের কথা চিন্তা করে ৭০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ কিনলাম ৮০০ টাকা দরে। ’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আবদুল খালেক ফারুক জানান, কুড়িগ্রামে ইলিশ এখনো অধরা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে। গতকাল পৌর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০০-৯০০ গ্রাম ইলিশের কেজি ৮০০ টাকা ও ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য কিছুদিন আগে এই ইলিশ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতো।

সদর উপজেলার পাঁচগাছি কলেজপাড়ার বাসিন্দা মজনুর রহমান বলেন, ‘টিভিত দেখপ্যার নাগছে ইলিশ বোলে পানির দামে বিক্রি হবার নাগছে। কই দাম তো কম মনে হয় না। ’

রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘ইলিশ খাবার খুব শখ হয় বাহে। কিন্তু যে দাম হামরা কেমন করি কিনি খাই?’


মন্তব্য