kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তদন্তকারীকে জেরা অব্যাহত আসামিদের হাতাহাতি গারদে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তদন্তকারীকে জেরা অব্যাহত আসামিদের হাতাহাতি গারদে

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে আসামিপক্ষ জেরা করছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জেরা মুলতবি করে আদালত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

এদিকে গতকাল আদালতে মধ্যাহ্ন বিরতির সময় খাবার নিয়ে গারদখানায় আসামিদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিচারক এজলাসে ছিলেন না। অন্যদিকে অসুস্থতার কারণে আসামি নূর হোসেন আদালতের অনুমতিক্রমে আগে গারদের বাইরে টুল নিয়ে বসলেও গতকাল ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। আদালত অনুমতি না দেওয়ায় নূর হোসেনকে অন্য আসামিদের সঙ্গে গারদখানার ভেতরেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আর সেখানেই ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা।

সূত্র জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টায় কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিদের উপস্থিতিতে আইনজীবীরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে জেরা করেন। আসামি আরিফ হোসেনের পক্ষে সকালে অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন আইনজীবী এম এ রশিদ ভূঁইয়া। দুপুর ১২টায় আসামি তারেক সাঈদের পক্ষে জেরা শুরু করেন সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট সুলতানউজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন আর বাদীপক্ষে জেরায় উপস্থিত ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খানসহ কয়েকজন আইনজীবী। চার্জশিটে র‍্যাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয় উল্লেখ থাকলেও দালিলিক প্রমাণাদি আছে কি না, আসামিদের মোবাইল কথোপকথনের রেকর্ড আছে কি না, যারা ট্রলারে লাশ বহন করেছে, তাদের আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে কেন?—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে তদন্তকারীকে। ১৯ জন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হলেও কেন ১৬১ ধারায় নেওয়া হয়নি তাও জানতে চাওয়া হয় তদন্তকারীর কাছে। বিকেলে আদালতের কার্যক্রম শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেরা মুলতবি করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, লে. কমান্ডার এম এম রানা, মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত মামলাটির বিচারকাজ চলার একপর্যায়ে বিরতির সময় আদালত কক্ষে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। খাবারের প্যাকেট নিয়ে অন্যতম প্রধান আসামি নূর হোসেনের সঙ্গে তর্ক হয় এক আসামির। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় নূর হোসেনের সমর্থনে অন্য কয়েকজন আসামি র‍্যাবের সাবেক হাবিলদার এমদাদ হোসেনকে মারপিট করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এজলাস কক্ষের গারদখানায় দুপুরে বিরতির সময় ২৩ প্যাকেট বিরিয়ানি আনা হয়। আসামিদের খাবারের এ আয়োজনের মাঝে অন্যতম আসামি র‍্যাবের হাবিলদার এমদাদ হোসেন টয়লেটে যান। ফিরে তিনি খাবার না পেয়ে হৈচৈ শুরু করেন। তখন নূর হোসেন কথা বললে তর্ক বেধে যায়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারি হয়। তবে বিচারকের অনুপস্থিতিতে ঘটা এ ঘটনা প্রভাব ফেলেনি বিচারিক কাজে। আদালতে আসামিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ জালাল জানান, খাবার নিয়ে আসামিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে, তখন হয়তো ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। পরে তাঁদের লাশ মেলে শীতলক্ষ্যা নদীতে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ চলছে। মামলার ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।


মন্তব্য