kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতীয় নাট্যোৎসব

নাটক রুখবে জঙ্গিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নাটক রুখবে জঙ্গিবাদ

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল জাতীয় নাট্যোৎসব শুরু হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

একঝাঁক শিল্পী গাইলেন দেশের গান। তার সঙ্গে পরিবেশিত হলো দৃষ্টিনন্দন নৃত্য।

এর পরপরই মঞ্চে অতিথিদের নিয়ে উৎসবের প্রদীপ প্রজ্বালন করা হলো। জঙ্গিদের হাতে নিহতের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হলো। তারও আগে উৎসবের শুরুতেই পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। আর এভাবেই পর্দা উঠল জাতীয় নাট্যোৎসবের।

প্রায় ৯ বছর হচ্ছে এই উৎসব। এবার জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী আস্ফাালনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, সংস্কৃতি দিয়ে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে জাতীয় নাট্যোৎসব ২০১৬। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে ছিল এই উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন। ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের, এ মাটি মানবতার’ শিরোনামে ১৮ দিনব্যাপী এই নাট্যোৎসবের যৌথ আয়োজক বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব আকতারী মমতাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও  আতাউর রহমান। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জমান।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য নাটক একটি বড় হাতিয়ার। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নাটকের মান উন্নয়নের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমি ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের দায়িত্ব রয়েছে। ঢাকা শহরে নাটকের দলের সংখ্যা বাড়লেও জেলা শহরগুলোতে নাটকের দলের সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। চর্চাটা আগের মতো হচ্ছে না। শুধু একটি উৎসব করেই বসে থাকলে হবে না। আমাদের সারা বছর কাজ করতে হবে। ’

আকতারী মমতাজ বলেন, ‘মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আন্তরিকভাবে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের আয়োজনকে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের আনাচে-কানাচে। ’

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘প্রায় ৯ বছর পর এই নাটকের উৎসব হচ্ছে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রতিবছর এই উৎসবের আয়োজন করা যায়। আর দু্ই বছর পর পর আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব করতে হবে। সব অপশক্তিকে এই সংস্কৃতির শক্তি দিয়েই আমরা মোকাবিলা করতে পারি। ’

আতাউর রহমান বলেন, ‘এটি অনেক বড় একটি উৎসব। একটি দেশকে চেনা যায় তার নাটক দিয়ে। আমাদের প্রতাশা থাকবে আরো নাটকের মঞ্চ ঢাকায় নির্মিত হবে। তাহলে নাটক আরো ছড়িয়ে যাবে। ’

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হল এবং বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে নাটকগুলো। উৎসবে ঢাকার বাইরের আটটি বিভাগের ২৬টি এবং শিল্পকলা একাডেমিসহ ঢাকা মহানগরীর ৩২টিসহ মোট ৫৮টি নাট্যদলের নাটক মঞ্চস্থ হবে।

উদ্বোধনী সন্ধ্যায় শিল্পকলার মূল হলে হবিগঞ্জের জীবন সংকেত নাট্যদল পরিবেশন করে নাটক ‘জ্যোতিসংহিতা’, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সিরাজগঞ্জের নাট্যলোক পরিবেশন করে ‘নারী নসিমন’, মহিলা সমিতি মঞ্চে গাইবান্ধার পদক্ষেপ নাট্যদল মঞ্চায়ন করে ‘পলোনাথ কোম্পানি’।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের নাটক দেখতে উৎসাহী করে তোলাও এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। উৎসব উপলক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা ২০ টাকায় টিকিট কাটতে পারবে। পাশাপাশি সারা দেশে নতুন দর্শক সৃষ্টি ও পৃষ্ঠপোষক বৃদ্ধিও এই উৎসবের লক্ষ্য বলে জানা যায়।

আয়োজকরা জানায়, ঢাকার দর্শককে সারা দেশের নাট্যচর্চার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি শুক্র ও শনিবার উৎসবের প্রতিটি ভেন্যুতে মঞ্চস্থ হবে ঢাকার বাইরের নাটক। এ ছাড়া নাট্যকর্মীদের জন্য থাকছে ‘দুই বাংলার নাট্যচর্চা’ বিষয়ক কর্মশালা, যা পরিচালনা করবেন পশ্চিমবঙ্গের নাট্যব্যক্তিত্ব অংশুমান ভৌমিক।


মন্তব্য