kalerkantho


পারিবারিক কলহ

রাজশাহীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীসহ তিন খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীসহ তিন খুন

রাজশাহীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই নারীসহ তিনজনকে খুন করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে বাগমারায় দুটি এবং বাঘা উপজেলায় একটি খুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন বাগমারা শিয়ালিপাড়া গ্রামের মিঠু আলীর স্ত্রী তহমিনা (২৭), রঘুনাথপুর গ্রামের খুশি বেগমের স্বামী সাজ্জাদ হোসেন (২৮) ও বাঘার আরিফপুর গ্রামের লাভলী বেগম (২০)।

পুলিশ তহমিনার স্বামী মিঠুকে ও সাজ্জাদের স্ত্রী খুশি বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার পরে পলাতক রয়েছেন নিহত লাভলীর স্বামী মজনুল হক মঞ্জুর।

তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনটি ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।

বাগমারা হাটগাঙ্গপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নাইমুল হক জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে শিয়ালিপাড়া গ্রামে মিঠুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী তহমিনার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি কোদাল দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কোপ দেন। এতে তহমিনা ঘটনাস্থলে মারা যান। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মিঠুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয় খুশি বেগমের। তাঁর বাবার বাড়ি মোহনপুর উপজেলার চাঁচিপাড়া গ্রামে। তাঁদের ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।

সম্প্র্রতি খুশি বেগম মোবাইল ফোনে অন্য লোকের সঙ্গে কথা বলছেন—এমন অভিযোগ আনার পর স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাদ শুরু হয়। এরই জের ধরে ঈদুল আজহার কয়েক দিন আগে খুশি তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। ঈদের সময় সাজ্জাদ গিয়ে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে আসেন।

গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাজ্জাদ খুন হন। খুশি তাঁকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন এমন অভিযোগ ওঠে। গতকাল সকালে পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, দুটি ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঘার আরিফপুর গ্রামে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় লাভলী বেগমকে। পারিবারিক কলহের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর লাভলীর লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে রাতেই স্বামী মজনুল হক মঞ্জুর প্রচারের চেষ্টার করেন যে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। এলাকাবাসী বুঝতে পারায় পালিয়ে যান মজনুল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাভলীর লাশ উদ্ধার করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে লাভলীর সঙ্গে মজনুল হকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী তাঁকে নির্যাতন করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে মজনুল হক ও তাঁর পরিবারের লোকজন লাভলীকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে।

বাঘা থানার ওসি আলী মাহমুদ বলেন, এ ব্যাপারে চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য