kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবদুল কাহ্হার আকন্দের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবদুল কাহ্হার আকন্দের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেনেড হামলায় উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ ট্রাইব্যুনালে এমন কথাই বললেন।

গতকাল শনিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ ২২৪তম সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দেন।

বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের বিশেষ এজলাসে দুপুর ১২টার দিকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ দুটি চাঞ্চল্যকর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, ওই ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল সাক্ষ্যগ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কাহ্হার আকন্দের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেই সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে। এরপর বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আবদুল কাহ্হার আকন্দ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিতে গিয়ে বলেন, মামলার ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডিতে নথি হস্তান্তর করার পর সিআইডির এএসপি আবদুর রশীদ তদন্তভার গ্রহণ করেন। এরপর এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান তদন্তভার গ্রহণ করেন। এই দুজনের তদন্তকাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমীন। তিনজনই পরস্পর যোগসাজশে মামলার প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে নিরীহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের দিয়ে সাজানো স্বীকারেক্তি আদায় করে মামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেন।

জবানবন্দিতে কাহ্হার আকন্দ বলেন, ২০০৪ সালের ২৫ আগস্ট মামলাটি তদন্ত করার জন্য সিআইডির কাছে নথি হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই এএসপি আবদুর রশীদ তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি তদন্তকালে ঘটনাস্থলে যান। খসড়া মানচিত্র তৈরি করেন। ৬৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। জজ মিয়া, আবুল হাশেম রানা ও শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেন। পরে (এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়) এএসপি ফজলুল কবীরের তদন্তের সময় জজ মিয়াসহ অন্যদের জবানবন্দি সাজানো বলে প্রমাণিত হয়। জবানবন্দিতে আরো বলেন, এএসপি আবদুর রশীদ ২০০৪ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তদন্ত করেন। এই তদন্তকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ও সিলেটে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে বোমা হামলা চালায়। অথচ মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের তিনি গ্রেপ্তার করেননি। এমনকি আবদুর রশীদের তদন্তকালে মুফতি হান্নান ২০০৫ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তাকে ২১ আগস্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

কাহ্হার আকন্দ জবানবন্দিতে ট্রাইব্যুনালকে জানান, ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট মুন্সী আতিকুর রহমান তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনিও মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেননি। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তিনিও পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তার মতো একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এসব কাজে সহযোগিতা করেন তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমীন। ওই সময় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায় বলে সব জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তারের পর মুফতি হান্নান শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার কথা স্বীকার করার পরও তাকে ২১ আগস্টের মামলায় গ্রেপ্তার করেননি এই তিন তদন্ত কর্মকর্তা।

সাক্ষী জবানবন্দিতে আরো বলেন, ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই এএসপি ফজলুল কবীর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি মুফতি হান্নানকে ২১ আগস্ট মামলায় গ্রেপ্তার করেন। পর্যায়ক্রমে মুফতি হান্নানের ভাই মফিদুল ইসলাম ওরফে মহিদ, সিলেটের জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু জাফর ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, রফিকুল ইসলাম সবুজদের গ্রেপ্তার করেন। এ ছাড়া আসামি আরিফ হাসান সুমন ও শাহাদৎ মোল্লা জুয়েলকে সরাসরি গ্রেপ্তার করেন। এদের মধ্যে জুয়েল ছাড়া অন্য সবাই ২১ আগস্টের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। জজ মিয়াকে দিয়ে সাজানো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের ঘটনা প্রকাশিত হয়। পরে ফজলুল কবীর মুফতি হান্নান, বিএনপি নেতা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৯ জুন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সঙ্গে জজ মিয়াসহ যাদের মিথ্যভাবে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন।


মন্তব্য