kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফকিরাপুলে হোটেলে ব্যবসায়ীর লাশ, তরুণী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফকিরাপুলে হোটেলে ব্যবসায়ীর লাশ, তরুণী আটক

রাজধানীর ফকিরাপুলে একটি আবাসিক হোটেল থেকে মজিবুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই হোটেলে ব্যবসায়ীর সঙ্গে ওঠা তানজিলা আক্তার তাজু নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ফকিরাপুলের এরিয়ান হোটেলের চতুর্থ তলার ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত মজিবুর আগে সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি জনশক্তিরপ্তানির ব্যবসায় যুক্ত হন। পরিবারের সঙ্গে তিনি রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি ময়মনসিংহে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন।

হোটেলকর্মীরা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার মজিবুর ও তানজিলা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মজিবুর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে হোটেলকর্মীদের জানান তানজিলা। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে লাশটি হোটেলেই রেখে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। মজিবুরের পিঠে লালচে দাগ ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানজিলা পুলিশকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মজিবুরের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সেখানে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাঁদের বিয়ে করার কথাও ছিল। এ ঘটনায় হোটেলের দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

নিহতের স্ত্র্রী দিলরুবা জানান, শুক্রবার রাতে স্বামীর মোবাইল ফোনে কল করে সেটি বন্ধ পান। তখন বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ শুরু করেন। মজিবুর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি কিভাবে হোটেলে গেলেন সেটিও রহস্য বলে মনে করেন দিলরুবা। মজিবুরের চাচাতো ভাই বাদল মিয়া অভিযোগ করেন, কৌশলে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ প্রসঙ্গে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন বা হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এর পরও ময়না তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত মন্তব্য করা যাবে না। ৮-৯ বছর আগে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য