kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই নবজাতককে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই নবজাতককে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে

দাফনের সময় কেঁদে ওঠা ফরিদপুরের নবজাতক গালিবা হায়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকা নেওয়া হয়।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দানশীল ব্যক্তি শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

ঢাকায় নেওয়ার আগে শিশুটি ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এই হাসপাতালেই গত বুধবার রাত ১২টার দিকে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন। মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করতে গেলে শিশুটি কেঁদে ওঠে। পরে তাকে ফের একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তার নাম রাখা হয় গালিবা হায়াত।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিশুটিকে ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারটি গালিবা হায়াতকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। হেলিকপ্টারে শিশুটির সঙ্গে যান তার বাবা নাজমুল হুদা মিঠু, চাচা শামীম মিয়া ও শিশু হাসপাতালের একজন নার্স। তবে কার সহযোগিতায় ওই শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে তা বলতে রাজি হননি আকাশ যানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নবজাতক গালিবা হায়াতের চিকিৎসকদলের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ হিস সায়াদ জানান ‘আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছি। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা ভালো। তাকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে গেলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ’

শিশুটির দাদা আবুল কালাম মিয়া জানান, রাজধানী ঢাকার একজন অপরিচিত দানশীল ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় গালিবা হায়াতকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। তিনি দেশবাসীর কাছে গালিবা হায়াতের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে গতকাল সকালে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খোন্দকার মো. আব্দুল্লাহ হিস সায়াদ জানিয়েছিলেন, শিশুটির অবস্থা অপরিবর্তিত। তিনি নবজাতকটির চিকিৎসা তদারকির জন্য সিভিল সার্জন কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের মেডিক্যাল দলের প্রধান। তিনি জানান, নবজাতকের  নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং গায়ের রং ভালো আছে। যেহেতু দুই দিন নবজাতক ভালো আছে এখন তাকে ঢাকায় নেওয়া যেতে পারে। হেলিকপ্টারে সম্ভব না হলে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুল্যান্সে একজন চিকিৎসকসহ তাকে ঢাকা পাঠানো যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

অন্যদিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে দেখতে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল  শিশু হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি জানান, এই হাসপাতালের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যদের সংখ্যা বাড়িয়ে ছয় করা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিমকে ওই কমিটির প্রধান করে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, প্রশাসনও শিশুটির চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। তার জন্য সব কিছু করবে জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি পুনর্গঠনের পর এর সদস্যরা গতকাল দুপুর ১২টায় ওই হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে প্রথম সভায় মিলিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।

এ ছাড়া সিভিল সার্জন ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করার জন্য জেনারেল হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট ঊষা রঞ্জন চক্রবর্ত্তীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সেটিও গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।


মন্তব্য