kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটে ঢুকে যুবকের গুলি, চার নারীসহ নিহত ৫

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে মার্কেটে ঢুকে যুবকের গুলি, চার নারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানে গতকাল বন্দুকধারীর হামলার পর স্থানটি নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রাখে। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে একটি শপিং সেন্টারে এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে চার নারীসহ পাঁচজনকে হত্যা করেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বার্লিংটন শহরের ক্যাসকেড মলের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার পরপরই বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। সে একাই হামলা করে বলে পুলিশ মনে করছে। তবে হামলার কারণ এবং নিহত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক, তা জানা যায়নি।

এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন এক যুবকের ছবি প্রকাশ করেছে। এতে রাইফেল হাতে তাকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। হামলাকারীকে ‘ধূসর পোশাক পরিহিত একজন হিস্পানিক পুরুষ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ক্যাসকেড মল ও পাশের অন্য দোকানপাট থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশ লোকজনকে দূরে থাকতে বলে। হামলাকারীকে ধরতে মার্কেটের ভেতর ও আশপাশে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চলাকালে জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা শহরের লোকজনকে দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া ক্যাসকেড মল এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। গাড়িচালকদের শহরের প্রধান সড়ক খালি করার নির্দেশ দেয়।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যটির টহল পুলিশের মুখপাত্র সার্জেন্ট মার্ক ফ্রান্সিস বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামলাকারী মলের ম্যাকির ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঢুকে অতর্কিতে গুলি চালালে চার নারী নিহত হন। এতে গুরুতর আহত হন এক পুরুষ। হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার প্রথম প্রহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সার্জেন্ট ফ্রান্সিস জানান, ঘটনার পরপরই জরুরি মেডিক্যাল টিম শপিং সেন্টারটিতে প্রবেশ করে আহত ব্যক্তি ও লোকজনকে বাসে তুলে পাশের একটি চার্চে সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, পুলিশ আসার আগেই বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে তাকে রাস্তার দিকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

এফবিআই জানায়, তারা ঘটনা তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করছে। ওয়াশিংটন স্টেটে আর কোনো হামলা হতে পারে বলে কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবে এটি সন্ত্রাসী হামলা কি না এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ।

সার্জেন্ট মার্ক ফ্রান্সিস জানান, হামলাকারীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শপিং মলের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, হামলার পর ওই ব্যক্তি ইন্টারস্টেট-৫ (আন্তরাজ্য মহাসড়ক)-এর দিকে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি গুলিবর্ষণকারী একজনই ছিল। সে রাইফেল হাতে ছিল। ’

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অন্য একটি বিপণিবিতানে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে ৯ জন আহত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। মিনেসোটার ঘটনায় হামলাকারী  পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্যের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর সিয়াটল থেকে ১০৫ কিলোমিটার দূরে বার্লিংটন শহরের অবস্থান। এ ছাড়া রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এই অঙ্গরাজ্যের অংশ নয়। দুটি আলাদা স্থানে অবস্থিত।

গুলিবর্ষণের পর মার্কেটটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আরমান্ডো প্যাটিনো নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি ‘টি-মোবাইল’ নামের একটি দোকানে কাজ করছিলেন। দোকানটি ম্যাকির স্টোরের কাছেই। তিনি বলেন, “আমি শুনলাম, কেউ একজন চিৎকার করে বলছে, ‘এখান থেকে বের হও’। এর পরই আমি পেছন ফিরে তাকাই। ম্যাকি স্টোরের দিকে তাকাতেই গুলির শব্দ শুনি। একটি গুলির শব্দ শোনার পরই আড়ালে চলে যাই। পরে ‘গান’ ‘গান’ বলে লোকজন পালাতে থাকলে আমিও তাদের সঙ্গে দৌড় দিই। ” সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।


মন্তব্য