kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন লাগবে জেলা পরিষদে প্রার্থী হতে

কাজী হাফিজ   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন লাগবে জেলা পরিষদে প্রার্থী হতে

নির্বাচকমণ্ডলী বা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তাব ও সমর্থন ছাড়া জেলা পরিষদে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রস্তাবক ও সমর্থকদের তাঁদের প্রস্তাব ও সমর্থনের বিষয়টি প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এই বিধান রেখেই জেলা পরিষদের নির্বাচনী বিধিমালা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয় এ বিষয়ে খসড়া বিধিমালা নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করেছে এবং গতকাল শনিবার কমিশন বৈঠকে তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার এ বিষয়ে ফের কমিশনের বৈঠক হবে।

ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ধরনের নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন। এর জন্য প্রায় ৮৮টি বিধি করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আচরণ বিধিমালাও করা দরকার। সে জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থকের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা এবং তাঁদের প্রস্তাব ও সমর্থন ছাড়া কেউ প্রার্থী হতে পারেন না।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুটি ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হবে। একটি হবে প্রচলিত সাধারণ ভোটার তালিকা। ওই তালিকা অনুসারে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলা বা ওয়ার্ডের ভোটার হতে হবে। অন্য তালিকাটি হবে নির্বাচকমণ্ডলীর। এ তালিকার ভোটাররা প্রস্তাবক ও সমর্থক হবেন এবং ভোট দেবেন। তবে তাঁরা প্রার্থী হতে পারবেন না। আর এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে জেলা সদরে। জেলা পরিষদের ১৫টি ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রও থাকবে ওই মূল কেন্দ্রেই।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শুধু জেলা পরিষদেই নির্দলীয় নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও নির্দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

জেলা পরিষদ আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুসারে, প্রতিটি জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচ নারী (সংরক্ষিত আসন) সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচনে সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তাঁরা এ আইনের ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ভোট দেবেন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়নের ১৬ বছর পর এ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডিসেম্বরের এ নির্বাচন করা যাবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী গত মাসে আশা প্রকাশ করেন। তার আগে ইসি বলেছিল, এ নির্বাচন হতে হলে আইন সংশোধন করে অন্যান্য স্থানীয় সরকার আইনের মতো এর বিধিমালা তৈরির ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। ১৬ বছর আগে ওই আইন প্রণয়নের পর জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পদ-পদবিতে কিছু পরিবর্তন ঘটে। আগে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় কমিশনার পদ ছিল। এখন তা পাল্টে কাউন্সিলর হয়েছে। পৌরসভার চেয়ারম্যান পদটি মেয়রে পরিবর্তিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদ এসেছে। আইন অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যান ও অন্য সদস্যদের নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করে তাঁদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করতে হবে। ফলে জেলা পরিষদ আইনে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পদ-পদবিতে পরিবর্তনের জন্য সংশোধনী আনতে হবে। নির্বাচন কমিশনের ওই চাহিদা অনুসারেই গত ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এসব সংশোধনী এনে নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে এখনো দেশের বিশিষ্টজনদের একাংশের দাবি অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন জনসাধারণের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত হোক।


মন্তব্য