kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবিশেষ

মায়েদের ড্রেস কোড নিষিদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শ্রীলঙ্কার কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মায়েরা কী ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন তার জন্য সেসব স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ড্রেস কোড বেঁধে দিয়েছিল। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সরকার বলছে, কোনো স্কুলই অভিভাবকদের জন্য এ ধরনের নির্দেশনা জারি করতে পারবে না।

প্রথমে একটি নামকরা স্কুলে এই ড্রেস কোড চালু করা হয়। স্কুলের সামনে একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যেখানে ছবিসহ বুঝিয়ে দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রীদের মায়েরা কী ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। এই স্কুলে মূলত উচ্চবিত্তের সন্তানরাই লেখাপড়া করে।

ওই নোটিশে দেখা যায়, মায়েরা শাড়ি কিংবা ঢিলেঢালা পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। কিন্তু স্কার্ট বা হাতাকাটা জামা পরে স্কুলে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। খোলামেলা পোশাক পরে এলে স্কুলের ছেলেদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে—এই আশঙ্কায় স্কুলের পক্ষ থেকে এই ড্রেস কোড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

এই নিয়ম চালু করার পর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রচুর অভিযোগ আসে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এ ধরনের ড্রেস কোড চালু করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী পোশাক না পরে আসার কারণে অনেক মাকেই স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

দেশটির শিক্ষামন্ত্রী আকিলা কারিয়াওয়াসাম বলেন, এরপর বহু অভিভাবক বিশেষ করে মায়েরা এই বিধিনিষেধের ব্যাপারে তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, অভিভাবকরা কী পরে স্কুলে আসবেন, স্কুল সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই ড্রেস কোডের জন্য মায়েরাই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। কারণ বেশির ভাগ কর্মজীবী নারী সব সময় শাড়ি পরেন না। তাঁদের কারো কারো ইউনিফর্ম আছে যা পরে তাঁদের কাজে যেতে হয়। ফলে বাচ্চাদের শুধু স্কুলে দিতে আসতে গেলেই তাঁরা শাড়ি পরতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে আবার পোশাক বদলে তাঁদের কাজে যেতে হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তিনি সব স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একটি সার্কুলার পাঠিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে, মা-বাবারা কী পরে স্কুলে আসবেন সে বিষয়ে স্কুলের বলার কিছু নেই। তিনি বলেন, সব মা-ই জানেন কী কাপড় পরে স্কুলে যেতে হয় বা হয় না। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য