kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্ধ্যায় লঞ্চডুবিতে মামলা মালিক-চালক আসামি

আরো দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আরো দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার

বরিশালের সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় আরো দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নদীর বিভিন্ন স্থানে মৃতদেহগুলো ভেসে ওঠে।

নিহতরা হলেন উজিরপুরের কেশবকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের শিশুপুত্র দিদান (৮), স্বরূপকাঠির ইদেলকাঠি গ্রামের মনি শংকরের স্ত্রী আলপনা রানী ও জিরাকাঠি গ্রামের সাইয়েদ আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪৫)? এ নিয়ে নারী, শিশুসহ মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। পুলিশের করা তালিকা অনুযায়ী এখনো আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনায় মালিক ইউসুব আলী ও চালক নয়ন মিয়াকে আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়েছে। গতকাল সকালে বানারীপাড়া থানার এসআই জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ করা হয়েছে। লঞ্চের মালিক ইউসুব আলী বানারীপাড়া পৌরসভা ও চালক নয়ন উজিরপুরের গাজীরপার গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা পলাতক।

এ ছাড়া বিআইডাব্লিউটিএর পক্ষ থেকে আজ শনিবার মেরিন আদালতে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, গতকাল সকালে পুলিশ বাদী হয়ে ফৌজদারি বিধিমালায় যাত্রী বহনে অবহেলা, অতিলোভের আশায় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে লঞ্চের মালিক ইউসুব আলী ও চালক নয়ন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, পুলিশের করা নিখোঁজ তালিকা অনুযায়ী ২৮ জনের মধ্যে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুজন। তারা হলো পূর্ব সৈয়দকাঠি এলাকার জাকির হোসেন ও বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের রাজু মিয়া। উদ্ধার করা লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মৃধা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর এলাকায় যোগাযোগ করেছি। তারা নতুন করে কারো নিখোঁজ থাকার খবর দেয়নি। তবে লঞ্চডুবির পর ২৮ জনের তালিকার মধ্যে রাজু ও জাকির নামের দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তাদের সন্ধানে নদীতে মাইকিং করা হয়েছে। লাশ ভাসতে দেখলে যেন প্রশাসনকে জানানো হয়। ’ 

এদিকে নিখোঁজ জাকির ও রাজুর স্বজনরা তাদের মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সন্ধ্যা নদীর বিভিন্ন স্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। তারা দুটি ট্রলার নিয়ে দিনরাত বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলছে।

নিখোঁজ রাজুর বাবা মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ছেলের ভাগ্যে কী আছে জানি না। নিখোঁজ সবাই তো উদ্ধার হয়েছে। রাজুর কোনো সন্ধান তো পাচ্ছি না। ’

জাকিরের বৃদ্ধ বাবা বলেন, ‘শুনেছি, সকলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু আমার বাবার সন্ধান পাই নাই। এ দেখার চাইতে আল্লা ক্যান আমারে নিল না। ’ এ সময় জাকিরের সন্ধানে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।


মন্তব্য