kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নেত্রকোনা জেলা মহিলা আ. লীগের সম্মেলন

কমিটি নিয়ে উপমন্ত্রী জয়ের উপস্থিতিতে সংঘর্ষে সমর্থকরা

সাংবাদিকসহ আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কমিটি নিয়ে উপমন্ত্রী জয়ের উপস্থিতিতে সংঘর্ষে সমর্থকরা

নেত্রকোনায় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট সংঘর্ষকালে হামলার শিকার হন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তী। ছবি : কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন চলাকালে কমিটি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের উপস্থিতিতে তাঁর সমর্থকরা প্রতিপক্ষের দিকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় নেত্রকোনা প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সভায় হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে শহরের মোক্তারপাড়ায় পাবলিক হল মিলনায়তনে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খান এমপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি। জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুন্নেছা আশরাফ দীনার সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবা রহমান খান শেফালীর পরিচালনায় সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসমা জেরিন ঝুমু প্রমুখ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন চলাকালে দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেত্রী আসমা জেরিন ঝুমু মাইকে নতুন কমিটিতে আগের কমিটির আহ্বায়ক কামরুন্নেছা আশরাফ দীনাকে সভাপতি, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবা রহমান খান শেফালীকে সাধারণ সম্পাদক, আয়শা আক্তারকে যুগ্ম সম্পাদক ও ফেরদৌসী আক্তারকে সাংগঠনিক

সম্পাদক ঘোষণা করেন। সঙ্গে সঙ্গে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় ‘এ কমিটি মানি না, মানি না’ বলে চিল্লাপাল্লা শুরু করেন। এ সময় তাঁর সমর্থকরাও ‘এ কমিটি মানি না, মানি না’ বলে প্রতিপক্ষের দিকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু করে। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় এবং ধাওয়া করে। হামলাকারীরা প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। তাঁকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পাল, আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম বিপ্লব, সুপ্রিয় সরকার রাজুসহ আরো ৯ জন আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা বলেন, ‘জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু কর্মী হলরুমে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর চেয়ার নিক্ষেপ শুরু করে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। ’

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী সৈয়দা সামছুন্নাহার বিউটি বলেন, ‘প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি না করেই পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁদের পকেট কমিটির নাম ঘোষণা শুরু করলে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। অযোগ্য জেলা কমিটি ঘোষণার বিষয়টি কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। ঘটনার সময় উপমন্ত্রী নিজেই উপস্থিত থেকে সব কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেতারা নতুন জেলা কমিটির নাম ঘোষণা করার সময়ই উপমন্ত্রী ও তাঁর ভাইয়েরা ‘এই কমিটি মানি না, মানি না’ বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে এবং সমর্থকদের নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু করেন। এতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা হামলার শিকার হন।

যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বলেন, ‘সম্মেলনে আমাকে প্রধান অতিথি করে মঞ্চে আনা হয়েছে। অথচ জেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নতুন কমিটির নাম ঘোষণা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ’

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের হাসপাতালে সাংবাদিক পল্লব চক্রবর্তীকে দেখতে যান। সেখানে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য