kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে মারল বিএসএফ

ঝিনাইদহ ও রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে মারল বিএসএফ

ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল শুক্রবার ভোরে দুই সীমান্তে এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্তে এক বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ।

গতকাল মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম জসিম উদ্দিন মণ্ডল (২৬)। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলবেলদিয়া গ্রামের দাউদ আলী মণ্ডলের ছেলে। অন্যদিকে রৌমারীর ফকিরপাড়া সীমান্তে নিহত ব্যক্তির নাম দুখু ওরফে লাল মিয়া (২৬)। তিনি ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

ভারত থেকে গরু আনার সময় এ দুজনকে গুলি করে বিএসএফ জওয়ানরা।

ঝিনাইদহে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে জসিম উদ্দিনসহ পাঁচ-ছয়জন মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতের হাজরাখাল ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। বাধা অমান্য করে তারা আরো ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ জওয়ানরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে জসিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। অন্যরা পালিয়ে আসে।

বিজিবি কর্মকর্তা জানান, বিএসএফ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ভারতের হাসখালী থানায় নিয়ে গেছে। জসিম চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম আরো জানান, সকালে জসিমের লাশ ফেরত চেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান জানানো হয়। দুপুরে বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের ৬০/৫৪-আর নম্বর মূল খুঁটির কাছে বিজিবি-বিএসএফের কম্পানি পর্যায়ে পাতাকা বৈঠক হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জসিমের লাশ তাদের কাছে আছে স্বীকার করে বলেছে, ময়নাতদন্তের পর সেটা ফেরত দেওয়া হবে।

তবে বিকেল সাড়ে ৩টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় লাশ হস্তান্তর করা হয়নি। রৌমারীর ফকিরপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আনার সময় গতকাল ভোর ৪টার দিকে লাল মিয়াকে লক্ষ্য করে বিএসএফ জওয়ানরা গুলি করে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ও গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানরা লাল মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 


মন্তব্য