kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা

কূটনৈতিক পথেই এগোচ্ছেন মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কূটনৈতিক পথেই এগোচ্ছেন মোদি

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কূটনীতির ওপরই নির্ভর করছেন বলে বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মূলত কাশ্মীরে সম্প্রতি ফেনায়িত ভারতবিরোধী বিক্ষোভের প্রশমন ঘটাতেই তিনি এ অবস্থান নিয়েছেন।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রর কঠোর অবস্থান দীর্ঘদিনের। গত নির্বাচনী প্রচারণায়ও বড় অংশ ছিল পাকিস্তান ইস্যু, যা তাঁকে ক্ষমতায়ও অধিষ্ঠিত করে। মোদির এমন অবস্থানের পরও সম্প্রতি কাশ্মীরের উরিতে জঙ্গি হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ঘটনায় মোদিকে শান্ত দেখা যাচ্ছে। প্রতিশোধ গ্রহণে তিনি অস্ত্রের ঝনঝনানি থেকে কূটনীতির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।  

এ অবস্থানের বড় কারণ হচ্ছে, মোদি ও ভারতীয় বাহিনীকে কাশ্মীরে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া তীব্র ভারতবিরোধী বিক্ষোভের অবসান ঘটাতে হবে। দুই মাস আগে কাশ্মীরে তরুণ ‘বিদ্রোহী’ নেতার মৃত্যুর পর কাশ্মীরে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পর্যটন মৌসুমেও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে কাশ্মীর উপত্যকায় কারফিউ জারি করতে হয়েছে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের পাশে চীনের সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে। ফলে ভারত চায় না দুটি দেশকে একসঙ্গে মোকাবিলা করা। কারণ ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ভারতকে অপমাননাকর পরাজয়ের গ্লানি বহন করতে হয়।

এ বিষয়ে কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গুল মোহাম্মদ ওয়ানি গতকাল শুক্রবার বলেন, এ অঞ্চলের যে কৌশলগত আবহ, তাতে নয়াদিল্লির পক্ষে সামরিক রোমাঞ্চের পথে যাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করছে। একই সঙ্গে কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই যে বিক্ষোভ চলছে, তা নয়াদিল্লির কৌশলগত সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যায় না।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতীয় তদন্তকারীরা বলছেন, জঙ্গিদের কাছ থেকে ম্যাপ, অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিস প্রমাণ করছে, গত রবিবারের উরি হামলাকারীরা পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য। এ নিয়ে ভারত পাকিস্তানকে দোষারোপ করে আসছে। এর আগে গত জানুয়ারিতেও ভারতের একটি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে সাতজন সেনাকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনায়ও ভারত পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছিল। গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবারও উরির হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় মোদির অনেক সমর্থক এবং ভারতীয় জনতা পার্টির অনেক সদস্য বলছেন, ভারতকে অবশ্যই এর পাল্টা জবাব দিতে হবে। এ বিষয়ে গুল মোহাম্মদ ওয়ানি বলেন, ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনাবিদরা ভালো করেই জানেন, ভারতে যেকোনো ধরনের সামরিক আঘাত একটি যুদ্ধের সূচনা করবে। এ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কাও রয়েছে। সুতরাং প্রতিশোধ গ্রহণের বিকল্প হিসেবে সামরিক পদক্ষেপ খুবই কঠিন বিষয়।

বিজেপি সরকারকে দুষলেন রাহুল গান্ধী : এদিকে ভারতের কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল বলেছেন, কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের জায়গা করে নেওয়ার জন্য প্রদেশটিতে বিজেপি-পিডিপি জোট সরকারই দায়ী। গতকাল হিন্দুস্তান টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাশ্মীরের ব্যাপারে কংগ্রেসের একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ছিল। কংগ্রেসের পরিকল্পনা ছিল সেখানকার তরুণ প্রজন্মকে মূলস্রোতে নিয়ে আসা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে ফেলা। এ পরিকল্পনাই কাশ্মীরে সহিংসতা কমিয়ে এনেছিল এবং ভারতকে সহযোগিতা করেছিল। কিন্তু বিজেপি সেই সফল পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।

জইশ-ই-মোহাম্মদ নেতার অডিও প্রকাশ : অন্যদিকে গত রবিবার উরি হামলার ঘটনায় ভারতের প্রতিশোধ গ্রহণের খবরে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহারের একটি অডিও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির নিজস্ব অনলাইন মুখপাত্র রঙ্গনুরে অডিও বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। এতে তিনি ভারতের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে বীরত্ব কেবল বলিউড সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ। ’

মাসুদ আজহার বলেন, ভারতের জনগণ অবাস্তব বলিউড সিনেমা দেখে মনে করে, তাদের দেশ অপরাজেয়। তারা তাদের সৈনিকদের সিনেমার নায়কদের মতোই হিরো মনে করে। ভারতীয় সরকারও একই ধরনের মিথ সৃষ্টি করেছে যে প্রতিটি আক্রমণেই তাদের সেনারা দুর্ধর্ষ। দেশটির মানুষ ও গণমাধ্যম চাচ্ছে, ওসামা বিন লাদেনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেভাবে যেন ভারত আক্রমণ করে। কিন্তু ভারতীয়দের চীন থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ভারত কেবল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিরপরাধ মানুষকে হত্যায় করাচি থেকে বেলুচিস্তান ও ঢাকায় প্রক্সি যুদ্ধেই সহযোগিতা করতে পারে। তিনি শ্লেষের সঙ্গে বলেন, ‘বলিউড সিনেমার নায়করা নিজেদের ছায়ার ভয়েই ভীত থাকে। ছবিতে দেখানো হয় ভারত অপরাজেয় এবং পাকিস্তান একটি দুর্বল জাতি। তাদের নায়করা কেবলই বায়বীয় চরিত্র। কিন্তু তাদের মুভি পাকিস্তানকে আক্রমণ করে। ’


মন্তব্য