kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টাম্পাকো ট্র্যাজেডি

ডিএনএর নমুনা দিল নিখোঁজ ৯ শ্রমিকের স্বজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ডিএনএর নমুনা দিল নিখোঁজ ৯ শ্রমিকের স্বজন

টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসে নিহতদের মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় ছয় লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক বিভাগ। নিখোঁজ ১১ শ্রমিক-কর্মচারীর স্বজনদের মধ্যে ৯ জনের স্বজনরা গতকাল বুধবার ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে নমুনা দিয়েছে।

টাম্পাকো দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী থানার এসআই সুমন ভক্ত জানান, দুর্ঘটনায় কারখানার নিখোঁজ ১১ শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে জয়নুল, রেদোয়ান, আনিসুর রহমান, জহিরুল, রিয়াজ হোসেন মুরাদ, আজিম উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, মাসুম আহমেদ ও রফিকুল ইসলামের দুজন করে স্বজন নমুনা হিসেবে লালা ও

রক্ত দিয়েছে। ক্লিনার মামুন ও চুন্নু মোল্লার স্বজনরা নমুনা দেবে আগামী রবিবার। আর ডিএনএ পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগবে কমপক্ষে তিন মাস।

গত ১০ সেপ্টেম্বর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় দুর্ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত ৩৫ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকি ছয়জনের মৃতদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। এ কারণে ছয় লাশের পরিচয় উদ্ধারের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।

এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা পথচারী আসমার (২২) নাম নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য গতকাল জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে আবেদন করেছে তাঁর স্বজনরা।

আসমার বাবা আবদুল মতিন জানান, তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার রউয়া গ্রামে। দুর্ঘটনার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্রসহ লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। টাম্পাকো দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সরকারি অনুদান দেওয়া হচ্ছে জেনে তিনি গতকাল গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করেন।

গাজীপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, আবেদন পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবদুল মতিন আরো জানান, ঘটনার এক মাস ১০ দিন আগে আসমার বিয়ে হয়। তিনি টঙ্গী বিসিকের রেডিসন অ্যাপারেলস পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে স্বামী সুমনসহ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বিসিক প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় টাম্পাকোর ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আসমা। সুমন কিছুটা আগে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

ক্ষতিপূরণ দাবিতে রিটের শুনানি : এদিকে টাম্পাকো দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি শেষ হয়। আদালত আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

রিট আবেদনে টাম্পাকো কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা, সরকারের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল, হতাহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিত্সা প্রদানের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত ১৯ সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদন করে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন। কারখানার মালিকপক্ষে ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার।

শুনানিতে রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সাভারের রানা পাজা দুর্ঘটনার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল; যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল।

এ সময় আদালত বলেন, এ ঘটনায় কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত হচ্ছে। কেন হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন?

জবাবে আইনজীবীরা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকবার হয়েছে। কিন্তু কোনো তদন্ত প্রতিবেদনই আলোর মুখ দেখেনি। এ জন্য যেসব তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তারা যেন তদন্ত সম্পন্ন করে একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সে জন্যই এই রিট করা হয়েছে; যাতে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসী জানতে পারে। তাঁরা বলেন, প্রচলিত আইনে এ কারখানার হতাহত শ্রমিকরা হয়তো খুব বেশি অর্থ পাবে না। এ জন্যও আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

শুনানিতে কারখানার মালিকের পক্ষে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, কারখানার দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষের কোনো হাত নেই। এটি একটি দৈব দুর্ঘটনা। শুনানি শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়।


মন্তব্য