kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপির বিরুদ্ধে মন্তব্যের জন্য স্কুল ছাত্রকে দুই বছরের সাজা

সখীপুরের ইউএনও ওসিকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সখীপুরের ইউএনও ওসিকে হাইকোর্টে তলব

টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং একই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় সশরীরে হাইকোর্টে তাঁদের হাজির হতে হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সখীপুরের প্রতীমা পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় এ তলব। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত স্কুল ছাত্রকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই ছাত্রকেও ওই দিন আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

ইউএনওকে সাজা প্রদানের আদেশের নথিপত্র, ওসিকে ছাত্রের বিরুদ্ধে করা জিডি ও গ্রেপ্তারবিষয়ক নথিপত্র এবং ছাত্রকে তার বয়স প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে বলা হয়েছে। ওই দিন উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে আদালতে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয়কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ নিয়ে গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এরপর আদালত আদেশ দেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতীমা পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে গত শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউএনও রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। সাব্বির প্রতীমা বঙ্কি গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর আলমের ছেলে। এর আগের দিন টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল-সখীপুর আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয় ওই বালকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন। দণ্ডের পর সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওই বালককে জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ‘নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই ছেলেটি ফেসবুকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হুমকি দিয়েছেন বলে ওই ম্যাজিস্ট্রেট জানান। ওই বালকের বয়স ১৯ বছর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিবেদনে ওসি জিডির বরাত দিয়ে বলেন, ওই ছেলে সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহানকে মেসেঞ্জারে হুমকি দেয়, ‘আপনার সময় ফুরিয়ে আসছে’। আর ম্যাজিস্ট্রেট সূত্রে উল্লেখ করা হয়, তাকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আইনের কোন ধারায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি। ”

এ বিষয়ে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমি আদালতকে বলেছি, যেখানে ওই ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের পর্যায়ে থাকা কোনো বিষয়ে এভাবে মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেওয়া যায় না। আর আসামি যদি শিশু হয়, তাহলে তার বিচার শিশু আইনে করতে হবে। এরপর আদালত তলবের আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়িত্বরত রাষ্ট্রক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শামসুদ্দোহা তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, এমপির বিরুদ্ধে মন্তব্যের বিষয়ে থানায় জিডি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এর তদন্ত হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার ওসি তা না করে ওই শিক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড দেন। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিতে পারেন না। এটা কেন হলো, তার ব্যাখ্যা জানতে ইউএনও এবং ওসিকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।


মন্তব্য