kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২৮ সেপ্টেম্বর এমএনপি লাইসেন্স নিলাম হচ্ছে না

কাজী হাফিজ   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



২৮ সেপ্টেম্বর এমএনপি লাইসেন্স নিলাম হচ্ছে না

মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবার লাইসেন্স নিলামের জন্য প্রথমে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ সেপ্টেম্বর। পরে তা পরিবর্তন করে ২৮ সেপ্টেম্বর করা হয়।

কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে জানানো হয়, ওই দিনও এ নিলাম হচ্ছে না। কবে হবে সেই তারিখ পরে জানানো হবে।

এমএনপি নিলামের আগের সময়সূচি অনুসারে গতকাল ছিল আবেদন বাতিল ও গ্রহণের দিন। আর ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল নিলামের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পরামর্শ বৈঠক। এসব কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই গতকাল নিলামের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।

২৮ সেপ্টেম্বর নিলাম অনুষ্ঠানে সমস্যা কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গতকাল বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা বিদেশে অবস্থান করছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও বাইরে। এ অবস্থায় পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, নিলামের কাজ আরো সতর্ক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সময়ের প্রয়োজন। এ জন্যই ২৮ সেপ্টেম্বরের নিলাম এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ স্থগিত করা হয়েছে।

বিটিআরসি এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এ নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগ্য হিসেবে পাঁচটির নাম প্রকাশ করে। এগুলো হচ্ছে রিভ নাম্বার লিমিটেড, গ্রীনটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইনফোজিলন বিডি টেলিটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড, ব্রাজিল বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম ও রুটস ইনফোটেক লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যথাক্রমে পোল্যান্ডের টি-ফোর-বি, লিথুনিয়ার মিডিয়াফোন, স্লোভেনিয়ার টেলিটেক, ব্রাজিলের ক্লিয়ারটেক এবং নরওয়ের সিস্টোর গ্রুপের অংশীদারত্ব রয়েছে। জানা যায়, এ পাঁচ প্রতিষ্ঠান  নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির কাছে বিড আর্নেস্ট মানি বা নিরাপত্তা জামানত জমা দিয়েছে।  

বিটিআরসি সূত্র জানায়, প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান এমএনপি গাইডলাইন কিনলেও আবেদন করে ছয়টি। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারতের একটি  কম্পানির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি বাছাইয়ে বাদ পড়ে।

এমএনপি লাইসেন্সের নীতিমালা অনুসারে বাংলাদেশে বসবাসকারী যেকোনো ব্যক্তি/প্রোপ্রাইটরশিপ/ পার্টনারশিপ কম্পানি এবং আরজেএসসি (যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়)-এর অন্তর্ভুক্ত যেকোনো কম্পানি এ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য। বাংলাদেশি, প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যৌথভাবে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধনের অনুপাত ৫১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশিদের বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর অথবা তাদের মালিকানাসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে না। এ ছাড়া বিটিআরসির লাইসেন্সধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাদের কাছে প্রাপ্য বকেয়া আছে তারাও আবেদন করতে পারবে না। আর এ লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কাজে তিন বছরের এবং কমপক্ষে এক কোটি গ্রাহককে সেবা দেওয়ার  অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অভিজ্ঞতার এ শর্তের কারণেই সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ছাড়া কোনো বাংলাদেশির পক্ষে এ লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রসঙ্গত, বিটিআরসি গত ১৪ জুন এমএনপি সেবার লাইসেন্স নিলামের সময়সূচিসহ রোডম্যাপ প্রকাশ করে।    সে অনুসারে লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ হবে নিলামের মাধ্যমে। নিলামের ভিত্তিমূল্য থাকছে এক কোটি টাকা। এ ছাড়া নিলামে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন ফি এক লাখ, বার্ষিক লাইসেন্স ফি ২০ লাখ ও ব্যাংক গ্যারান্টি এক কোটি টাকা। এ সেবার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হবে আপাতত একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরো লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে। লাইসেন্সের মেয়াদ হবে ১৫ বছর। পরে সরকার বা বিটিআরসির অনুমোদনে মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়ানো যাবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রথম বছর সরকারকে তাদের রাজস্ব আয়ের ভাগ দিতে হবে না। দ্বিতীয় বছর থেকে ৫.৫ শতাংশ হারে রাজস্ব দিতে হবে।

এ সেবা পেতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দিতে হবে। অপারেটর বদল বা পোর্টিংয়ের সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা। একবার বদল করার পর আবারও অপারেটর বদল করতে কমপক্ষে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবার পোর্টিংয়ের ট্রান্সফার চার্জ হবে ৩০ টাকা।


মন্তব্য