kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাত স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাত স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু

দেশের সাত স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মধুুপুরে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লা হাওরে। এখানে চার মৎস্যজীবীসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া মানিকগঞ্জে কৃষক, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবক, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বৃদ্ধ মারা গেছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে— গতকাল সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের মাগন্তিনগর পচারচনা গ্রামে বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো নিখিল হাজং (৪৫) ও তাঁর দুই ছেলে জর্জ সিমসাং (১০) ও লোটন সিমসাং (৮)। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্য নিখিলের স্ত্রী জনটা সিমসাং আহত হন।

মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, সকালে নিখিল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে শুয়ে ছিল। এ সময় তাদের ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই বাবা ও দুই ছেলে নিহত হয়। আহত জনটা সিমসাংয়ের শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঝলসে যায়। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের করনশি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো  কৃষক মারুফ মিয়ার স্ত্রী ললিতা বেগম (৪০) ও তাঁদের ছেলে মো. রিমন (১৫)। বজ্রপাতে ললিতার মেয়ে বিউটিও (২০) গুরুতর আহত হন। পরিবারের লোকজন জানায়, নিহত দুজনই তখন ঘরের কাজকর্ম করছিলেন।

সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় চার মৎস্যজীবীসহ ছয়জনই মারা গেছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়ারপুর হাওরে বজ্রপাতে মারা গেছেন বাঁশ ব্যবসায়ী শামীম আহমদ (৪৫) ও তাঁরা মিয়া (৩৫)। মাটিয়াপুর গ্রামের ওই দুই ব্যক্তি সকাল সাড়ে ৭টায় একটি নৌকাযোগে মাটিয়াপুর হাওর হয়ে স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁরা। একই উপজেলার টুক দিরাই গ্রাম পার্শ্ববর্তী হাওরে মঙ্গলবার দুপুরে মাছ ধরাকালে সেমরান হোসেন (২০) নামের এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টায় জেলার শাল্লা উপজেলার ভেড়ামোহনা হাওরে বজ্রপাতে আরো তিন মৎস্যজীবী মারা যায়। উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের শ্রীহাইল গ্রাম পাশের ভেড়ামোহনা হাওরে তারা মাছ ধরছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই শ্রীহাইল গ্রামের হৃদয় আহমদ (১৮), ইমন মিয়া (১৬) ও ছাইদুল মিয়া (১৭) মারা যায়। শিশু মিয়া নামের তাদের অন্য সঙ্গী আহত হয়।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বজ্রপাতে মইজুুদ্দিন বেপারী (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। সকাল ৭টার দিকে উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের রাইল্লা গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মইজুদ্দিন ওই গ্রামের মৃত গেঁদা মিয়ার ছেলে। তিল্লি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন লাবু জানান, সকালে বৃষ্টির মধ্যে মইজুদ্দিন বাড়ির উঠানে গাভি পরিচর্যা করছিলেন। এ সময় তাঁর ওপর বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বজ্রপাতে তাঁর একটি বাছুরও মারা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোহরপুরে মঙ্গলবার বিকেলে বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নারায়ণপুরের নয়রশিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে ওয়াহেদুল ইসলাম (৪৫) ও সফিক আলীর ছেলে আব্দুর রাকিব (২৩)।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন হোদা জানান, ওয়াহেদুল ও রাকিব বিকেলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জাল তুলতে যান। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে মারা যান। তাঁদের মধ্যে ওয়াহেদুলের লাশ পদ্মায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সন্ধ্যায় নদী থেকে ওয়াহেদুলের লাশ উদ্ধার করে।  

পার্বতীপুরে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধ নিহত ও অন্য ৬ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টার দিকে পার্বতীপুর-রংপুর সড়কের হাসিনানগরের কাছে মুসলধারে বৃষ্টিতে ভিজে জমিতে ঘাস নিড়ানির কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই পিয়ারু মুসাহার (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা যান। তাঁর বাড়ি হাসিনানগরে। এ সময় আরো ছয়জন আহত হয়।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগর গ্রামের কৃষি জমিতে কাজ করার সময় গতকাল সকালে বজ্রাঘাতে মতি চন্দ্র রায় (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার পণ্ডিতপাড়ার মৃত মেঘনধ চন্দ্র রায়ের ছেলে। আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ শাহ্ জানান, ধানক্ষেতে ইঁদুর মারার সময় বজ্রপাতে তাৎক্ষণিকভাবে কৃষক মতি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত সোমবার জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ি ইউনিয়নের ভেড়ম গ্রামের বাসিন্দা সজমুদ্দিনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২) বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন।


মন্তব্য