kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যাঙ্গেলার পরিণতি হিলারির?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাঙ্গেলার পরিণতি হিলারির?

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির (সিডিইউ) বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। এই ভরাডুবির কারণ তাঁর শরণার্থী নীতি বলে ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

জার্মানির ওই রাজ্য নির্বাচনের ফল এখন আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে। কেননা সেখানেও অভিবাসননীতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসন আইন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নন হিলারি। অন্যদিকে অভিবাসনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কট্টর অবস্থানে ট্রাম্প। এমনকি নতুন ‘ট্র্যাকিং সিস্টেম’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

এই অভিবাসন নীতিই কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় হয়ে দেখা দেবে? এ প্রশ্নে সাম্প্রতিক বার্লিন নির্বাচনকে সামনে আনতে শুরু করেছে অনেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বার্লিন রাজ্যে এবারই সিডিইউ দল সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। আগেরবারের চেয়ে এবার চ্যান্সেলর মার্কেলের দল ৫.৭ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। রাজ্য সংসদে এবার ঢুকছে অভিবাসন ও শরণার্থী-বিরোধী হিসেবে পরিচিত নতুন দল ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা (এএফডি)। জার্মানির ১৬টি আঞ্চলিক পার্লামেন্টের মধ্যে এখন ১০টিরই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে এএফডি।

সিডিইউ বার্লিনের নির্বাচন নিয়ে টানা পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনে হারল। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত মেকলেনবুর্গ ফোয়রপমার্ন রাজ্যের নির্বাচনে এএফডির চেয়েও কম ভোট পেয়েছিল মার্কেলের দল—এমনকি আগামী বছর অনুষ্ঠেয় কেন্দ্রীয় নির্বাচনেও সিডিইউ ভালো করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ইউরোপে শরণার্থী সংকটে জার্মানির দ্বার খোলা রেখেছিলেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থী জার্মানিতে ঢুকেছে। শরণার্থীর এ সংখ্যা রেকর্ড গড়েছে। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেলের সুবিখ্যাত উক্তি ছিল ‘আমরা পারব’।

কিন্তু এখন সেই উক্তি থেকে সরে এসেছেন অ্যাঙ্গেলা। জার্মানি বিপুলসংখ্যক শরণার্থী ঠিকমতো সামাল দিতে পারেনি বলেই মানছেন তিনি। জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, শরণার্থীদের জন্য তাঁর এ দ্বার খোলা নীতি নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করেছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, মার্কেল শরণার্থীদের অবাধে জার্মানিতে ঢুকতে দেওয়ার যে নীতি নিয়েছিলেন মানুষের মধ্যে তা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তাঁর নীতির কারণে দলের এমন পরাজয় হয়েছে স্বীকার করে নিয়ে এ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অ্যাঙ্গেলা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সময়কে যদি ফেরানো যেত তাহলে আমি আবার পেছনে ফিরে গিয়ে জার্মানিকে শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলতাম। ’

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনেও এই অভিবাসন নীতি অন্যতম প্রভাবক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বার্লিনে অ্যাঙ্গেলার দলের হারের সংবাদে যুক্তরাষ্ট্রে হিলারি ক্লিনটনের হারের শঙ্কা টেনে এনেছেন ‘ডন বি’ নামে লেখা এক পাঠক। তিনি ওই সংবাদে মন্তব্য করেন, ‘হিলারির আগেই মার্কেল; অভিবাসন নীতির কারণেই এমনটা। ’

‘ডিনাইজ’ নামে লেখা আরেক পাঠক মন্তব্য করেন, ‘চমৎকার, তাঁর পতন দেখা আনন্দদায়ক। হিলারিকেও তাঁর সঙ্গে নেওয়া উচিত। ’ 

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন অভিবাসন ইস্যুকে। প্রচারের শুরুর দিকেই তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে তিনি নিজ দেশে ফেরত পাঠাবেন।

আর অভিবাসী বিষয়ে হিলারির অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, হিলারি ক্লিনটনের অভিবাসন নীতি অতিমাত্রায় শিথিল। হিলারি কার্যত সীমান্ত কড়াকড়ি বাতিল করবেন এবং দেশকে ‘গুরুতর ঝুঁকি’র মধ্যে ফেলবেন। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘অনিবন্ধিতদের হাতে প্রতিদিন আমেরিকার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের সীমান্ত খুলে রাখা হচ্ছে। আর নিরপরাধ আমেরিকাবাসী অপ্রয়োজনে হামলার শিকার হচ্ছে ও মারা পড়ছে। ’ তিনি বারবার অভিযোগ করে বলেন, হিলারি নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে সাধারণ ক্ষমা চালু করবেন।

দেশে অভিবাসনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নতুন ‘ট্র্যাকিং সিস্টেম’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ভিসার অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের খুঁজে বের করবে। শুধু তাই নয়, অবৈধ অভিবাসীদের সবরকম সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প গত গ্রীষ্মে বলেছিলেন, মেক্সিকোর বেশির ভাগ অভিবাসী মাদকপাচারকারী ও ধর্ষক। এ ছাড়া তিনি মেক্সিকোর সঙ্গে দক্ষিণ সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের প্রতি সমর্থন জানান।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনমত জরিপে আগামী নির্বাচনে ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে জোর লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য