kalerkantho


সিএনজির বিকল্প হিসেবে আসছে ‘অটোগ্যাস’

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিএনজির বিকল্প হিসেবে আসছে ‘অটোগ্যাস’

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) ব্যবহার কমিয়ে আনতে চায় সরকার। বিশেষত গৃহস্থালি ও যানবাহনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যানবাহনে যুক্ত হতে যাচ্ছে এলপি গ্যাস। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই গ্যাসের নামকরণ করেছে ‘অটোগ্যাস’। এলপি গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের তিনটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এরই মধ্যে দেশব্যাপী প্রায় ৮০০ অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আরো কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয় যানবাহনে সিএনজি ও গৃহস্থালিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমাতে চায়। এ জন্য সিএনজির বিকল্প হিসেবে অটোগ্যাসের ব্যবহারে আগ্রহী সরকার। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা এলপিজি আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে অটোগ্যাসে রূপান্তর করবে। ’

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে ৫৮০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় তিন লাখ যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ করা হয়। দেশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯৮৯ দশমিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সিএনজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগের বছরে ব্যবহার করা হয় এক হাজার ২১৫ দশমিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গৃহস্থালিতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে দুই হাজার ৯৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা ছিল তিন হাজার ৩৪৬ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, অটোগ্যাস স্টেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন যানবাহন তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত কম খরচে সিএনজির পরিবর্তে এলপি গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে। এই খাতে সাশ্রয়কৃত সিএনজি শিল্প-কারখানায় ব্যবহার করা যাবে। এতে করে একদিকে জনসাধারণ উপকৃত হবে, অপরদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তাই সরকার বসুন্ধরা গ্যাস লিমিটেড, ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও বেক্সিমকো পেট্রোলিয়াম লিমিটেডকে অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি (অটোগ্যাস) ও রান্নায় ব্যবহৃত এলপিজির স্পেসিফিকেশনে পার্থক্য রয়েছে। স্টেশন স্থাপনের আগে অটোগ্যাসের স্পেসিফিকেশন নির্ধারণের জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (প্রশাসন/অপারেশন) প্রধান করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বুয়েট, বিইআরসি, বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে এলপিজির (অটোগ্যাস) স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি ৭০ শতাংশ বিউটেন/৩০ শতাংশ প্রোপেন সমন্বয় করে স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ‘এলপিজি (অটোগ্যাস) রিফুয়েলিং স্টেশন ও রূপান্তর ওয়ার্কশপ স্থাপন, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা-২০১৬’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশব্যাপী জ্বালানি সাশ্রয়ী অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন ও ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরো জানান, যানবাহনে পেট্রল ও ডিজেলের পরিবর্তে এলপিজি (অটোগ্যাস) ব্যবহার অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। বিশ্বব্যাপী অটোগ্যাস পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড যে পরিমাণে বায়ু ও পরিবেশদূষণ করে তার তুলনায় অটোগ্যাস ব্যবহারে দূষণ বহুলাংশে কম হয়। এ ছাড়া যানবাহনে অটোগ্যাসের ব্যয় পেট্রল ও ডিজেলের তুলনায় সাশ্রয়ী হবে। দেশে অটোগ্যাসের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেল আমদানির পেছনে যে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় তাও সাশ্রয় হবে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বিপিসি পরিচালক (বিপণন) মীর আলী রেজা বলেন, যে পরিমাণ সিএনজি দিয়ে একটি গাড়ি ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়, সেই একই পরিমাণ অটোগ্যাস দিয়ে চার গুণ পথ পাড়ি দিতে পারবে। এ ছাড়া অটোগ্যাস তরল জ্বালানি থেকে উৎপাদন হওয়ায় এতে গাড়ির ইঞ্জিন তুলনামূলক ঠাণ্ডা থাকবে।


মন্তব্য