kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ডায়াবেটিক ভাত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ডায়াবেটিক ভাত

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি যাদের বেশি, তাদের সব সময়ই কম ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিজ্ঞানীরা ভাত রান্নার এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার ফলে ভাতে ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে এনে সেই ঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে ফেলা যায়।

পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। কিন্তু যারা ভাত খায়, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন, বিশেষ করে সাদা ভাতের শ্বেতসার যে ক্যালরি পাওয়া যায়, তা দেহে বাড়িয়ে দেয় শর্করা ও মেদের পরিমাণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, এক কাপ ভাত থেকে প্রায় ২০০ ক্যালরি পাওয়া যায়।

শ্রীলঙ্কার দুই বিজ্ঞানী সুদাহির জেমস ও ড. পুষ্পরাজা তাবরাজা সে দেশের কলেজ অব কেমিক্যাল সায়েন্সে এ গবেষণা করেছেন। তাঁরা বলছেন, ভাত রান্নার নতুন ওই পদ্ধতিতে ক্যালরির পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে আনা সম্ভব। গতকাল সোমবার আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জাতীয় সভায় তাঁরা এই গবেষণার প্রাথমিক ফল প্রকাশ করেছেন।

কী সেই পদ্ধতি : গবেষক সুদাহির জেমস বলছেন, প্রথমে পাত্রে পানি ফোটাতে হবে, এরপর তাতে যে পরিমাণ চাল রান্না করবেন তার প্রায় ৩ শতাংশ পরিমাণ নারিকেল তেল ঢেলে দিতে হবে। এরপর সেই ফুটন্ত পানিতে চাল ঢেলে দিতে হবে। এরপর ভাত হয়ে গেলে তা ফ্রিজে ১২ ঘণ্টা রেখে ঠাণ্ডা করতে হবে।

ড. পুষ্পরাজা বলেন, নারিকেল তেল দিয়ে ভাত রান্না এবং এরপর তা ১২ ঘণ্টা ধরে ঠাণ্ডা করার ফলে ভাতের ভেতর যে স্টার্চ বা শ্বেতসার আছে, তার রাসায়নিক প্রকৃতি বদলে যায় এবং এর ক্যালরির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন ধরনের চালের ক্ষেত্রে ক্যালরির পরিমাণ ১০-১২ শতাংশ থেকে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো গেছে এ পদ্ধতিতে। তিনি আরো বলেন, ক্যালরির পরিমাণ কমে যাওয়া মানেই সেই ভাতের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাওয়া।

এই দুই গবেষক এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ৩৮ প্রজাতির চাল নিয়ে এ পরীক্ষা চালিয়েছেন। এখন তাঁদের লক্ষ্য বাকি প্রজাতির চালের ওপর এই পরীক্ষা চালানো এবং নারিকেল তেল ছাড়া অন্য তেল দিয়েও এই সুফল পাওয়া সম্ভব কি না তা দেখা। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য