kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাঁদছিল তাই বাবার থাপ্পড় শিশুর মৃত্যু

খুলনা অফিস   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাঁদছিল তাই বাবার থাপ্পড় শিশুর মৃত্যু

মা ছিল না ঘরে। পাঁচ বছরের শিশু সিয়াম খুব কাঁদছিল।

তার সত্বাবা কান্না থামানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু মাকে না পেয়ে অবিরত কেঁদেই যাচ্ছিল শিশুটি। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বাবা আবু সাঈদ সরদার কষে থাপ্পড় মারে তাকে। এতে জ্ঞান হারায় সে। পরে ঘরে তালা দিয়ে বাইরে চলে যায় বাবা। মা রাশিদা বেগম বাড়ি ফিরে দেখেন ৎার শিশুসন্তান মরে পড়ে আছে।

গত রবিবার বিকেলে খুলনা নগরীর হরিণটানার কৈয়া বাজার রাজবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই বাবা আবু সাঈদ সরদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মা রাশিদা বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতে নেওয়া হলে মহানগর হাকিম মো. ফারুক ইকবালের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বাবা আবু সাঈদ সরদার। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জবানবন্দি দিতে গিয়ে আবু সাঈদ সরদার বলে, ‘সিয়াম প্রায়ই দুষ্টুমি করত। কালকেও (রবিবার) কান্নাকাটি করে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। আমি ওরে চার-পাঁচটা চড়-থাপ্পড় দেই। একটা থাপ্পড় ওর বুকে লাগতেই ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু এতে মইরা যাবে বুঝতে পারি নাই। ’

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে আবু সাঈদ সরদার পুলিশকে জানিয়েছে, সিয়াম কান্নাকাটি করায় তাকে জোরে জোরে চড় মারে। এতে সিয়াম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় সিয়ামকে ঘরে আটকে রেখে সে বাজারের দিকে চলে যায়।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিয়ামের বাবা মো. শাহ আলম দেড় বছর আগে তার মা রাশিদা বেগমকে ফেলে চলে যান। এরপর সিয়ামের মা আবু সাঈদ সরদারকে বিয়ে করেন। মা রাশিদা বেগম সিয়ামকে নিয়ে দ্বিতীয় স্বামী আবু সাঈদ সরদারের রাজবাঁধ এলাকার ভাড়া বাড়িতে বাস করেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালী গ্রামে। রবিবার বিকেলে সিয়ামকে তার সত্বাবার কাছে রেখে কৈয়া বাজারে যান রাশিদা। এরপর বাড়ি ফেরার পথে স্বামী আবু সাঈদ সরদারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় সিয়ামের কথা জিজ্ঞাসা করলে সাঈদ বলে, ‘ঘরে তালা দিয়ে চলে এসেছি। ’ পরে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখেন সিয়ামের মৃতদেহ। পরে পুলিশকে খবর দিলে ডুমুরিয়া এলাকা থেকে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আবু সাঈদ সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।   

মা রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমি আমার সোনার মানিকের মুখের দিকে চাইয়ে শত কষ্ট সহ্য করছি। ও আমার বাচ্চাডারে এমুন করে মারতে পারলো। আমি ওর বিচার চাই। আল্লাহ ওর বিচার করবে। ’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ছোট্ট বাচ্চারে যারা এভাবে মারে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ’

সিয়ামের মা রাশিদা বেগম বলেন, “আবু সাঈদ সরদার আমার দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম পক্ষের সন্তান সিয়ামকে নিয়ে রাজবাঁধ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে আমরা বাস করি। আমাদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালি গ্রামে। গত রবিবার বিকেলে আমার ছেলে সিয়ামকে তার সত্বাবার কাছে রেখে কৈয়া বাজারে যাই। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সাঈদের সাথে দেখা হয়। এ সময় সিয়ামের কথা জিজ্ঞাসা করলে সাঈদ আমাকে বলে, ‘ঘরে তালা দিয়ে চলে এসেছি। ’ পরে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখি সিয়াম মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে সাঈদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ”  

হরিণটানা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনার পরপর ঘাতক সিপতা আবু সাঈদ সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে সিয়াম হত্যার কথা স্বীকার করে সে।


মন্তব্য