kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপি রানা কাশিমপুর কারাগারে

ফাঁসির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ আ. লীগের

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এমপি রানা কাশিমপুর কারাগারে

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে গতকাল সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলর রিতেশ চাকমা জানান, ভিআইপিদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এমপি রানাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে।

আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি। সরকারদলীয় এমপি রানা ২২ মাস পলাতক থাকার পর গত রবিবার টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে রানা ও তাঁর তিন ভাইয়ের ফাঁসির দাবিতে গতকাল দুপুরের দিকে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলটি স্থানীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কোর্ট চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমেদ, দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক শফিউল ইসলাম সুখন, মনির সিকদার প্রমুখ। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

সমাবেশে বক্তারা  বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে হত্যা করেছে তাদের টাঙ্গাইলের মাটিতে কোনো স্থান হবে না। এমনকি যত দিন বাংলাদেশ থাকবে তত দিন খুনিদের আওয়ামী লীগেও স্থান হবে না। একটি পরিবার আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে লুটপাট ও খুন করেছে।  

নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বলেন, ‘আসামিদের দ্রুত বিচার চাই। আমার শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত আমি এ আন্দোলন চালিয়ে যাব। সামনে আমাদের আন্দোলন আরো কঠোর হবে। ’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাজার রোড ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রবিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। সেখানেও বক্তারা এমপি রানার ফাঁসির দাবি জানান। তবে ওই সময় দলের একটি অংশ অনুপস্থিত ছিল।

গত দুই দিন টাঙ্গাইলে সবচেয়ে আলোচিত ছিল আওয়ামী লীগের এমপি রানার পক্ষে বিএনপির কয়েকজন আইনজীবীর মামলা পরিচালনার বিষয়টি।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ টাঙ্গাইলের কলেজপাড়া এলাকায় তাঁর বাসার সামনে পাওয়া যায়। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ সদর থানায় মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রথমে থানার পুলিশ ও পরে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলার তদন্ত শুরু করে। ২০১৪ সালের আগস্টে এই মামলার আসামি আনিছুল ইসলাম ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন। আদালতে দেওয়া তাঁদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই হত্যাকাণ্ডে এমপি রানা ও তাঁর তিন ভাইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর রানা ও তাঁর ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান।


মন্তব্য