kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেরার প্রথম দিনেই তুমুল বাগিবতণ্ডা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেরার প্রথম দিনেই তুমুল বাগিবতণ্ডা

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষীদের জেরা শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রথম দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে জেরা করা হয়।

এ সময় সাক্ষীকে আপত্তিকর সম্বোধন করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল বাগিবতণ্ডা হয়।

সাত খুনের ঘটনায় করা দুটি মামলায় অভিন্ন সাক্ষী ১২৭ জন করে। ১০৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর জেরা শুরু হয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে নূর হোসেন, র‍্যাবের চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, এম এম রানাসহ ২৩ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়।

আরিফ হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ রশিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে জেরা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন। বাদীপক্ষে ছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খানসহ আরো কয়েকজন আইনজীবী।

আদালত সূত্রে আরো জানা গেছে, জেরায় খুনের ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী আছে কি না, কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা সেতুর তীরে ল্যান্ডিং স্টেশনে যেখান থেকে লাশ ট্রলারে ওঠানো হয় সেখানে কোনো নিরাপত্তা রক্ষী বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল কি না তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চায় আসামিপক্ষ। তা ছাড়া নিরাপত্তারক্ষীদের কেন ১৬০ ধারায় তলব করে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়নি—এ প্রশ্ন বারবার করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

র‍্যাবের নারায়ণগঞ্জের আদমজী ও পুরনো কোর্ট এলাকার দপ্তরগুলো থেকে যখন র‍্যাবের কর্মকর্তাদের গাড়ি বের হয় তখন সেখানে রেজিস্টার খাতায় লিপিবদ্ধ ও সিসি (কমান্ডিং সার্টিফিকেট) পূরণ করা হয়েছিল কি না কিংবা সেগুলো জব্দ কেন করা হয়নি জানতে চাওয়া হয়। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন কোনো ধরনের রেজিস্টার খাতা রাখা হয়নি। সাত খুনের পুরো  ঘটনায় র‍্যাবের ওই সময়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান তদারকি করেছেন বলে শোনা গেছে। কিন্তু কেন তাঁকে সাক্ষী করা হয়নি জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তর দেন, ‘প্রয়োজন মনে করিনি। ’

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, জেরার শুরুতে যেভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে শালীনতা ছিল না বলে তাঁর মনে হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিপক্ষ কখনো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘মিয়া’, আবার কখনো ‘আরে মিয়া’ এসব সম্বোধন করে। এটা নিয়ে পিপি-ও আপত্তি জানিয়েছিলেন। তা ছাড়া প্রশ্ন করার ধরন দেখে তাঁর মনে হয়েছে, সাক্ষীকে শাসন করা হচ্ছে। ধমকের সুরে কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, আদালত আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। অন্যটির বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।


মন্তব্য